তাড়াশের ৩ বীরাঙ্গনা

অবশেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেও মেলেনি ভাতা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বীরাঙ্গনা অর্চনা রানী সিংহ ও পচী বেওয়াকে (মরণোত্তর) মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয় গত বছরের ৪ জুলাই। গেজেট নম্বর ২০৫। অজ্ঞাত কারণে গেজেট থেকে বাদ পড়ে যায় আরেক বীরাঙ্গনা পাতাসী বেওয়া। পরে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬০তম সভায় পাতাসী বেওয়াকেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও রাজকারদের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই তিন বীরাঙ্গনা অবশেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেও আজও তাদের মেলেনি ভাতা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মরণোত্তর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া পচী বেওয়া ২০০৫ সালে মারা গেছেন। রেখে গেছেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এ ছাড়া তার ঘরে রয়েছে এক যুদ্ধশিশু, পাকিস্তানি সেনার ঔরসজাত এক সন্তান। এদিকে অর্চনার স্বামী পরলোক গমনের পর থেকে দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পাতাসী বেওয়ারও চার ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে একই রকম অবস্থা। এ নিয়ে কথা হয় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনা অর্চনা রানী সিংহ ও পাতাসী বেওয়ার সঙ্গে। দুজনই বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় তাদের নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় সামরিক ক্যাম্পে। পরে সেখানে তারা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ভাতা পেলে তারা মানবেতর জীবনযাপন থেকেও মুক্তি পেতেন।

তাড়াশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার গাজী আরশেদুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ওই প্রস্তাব পাস হয়। এরপর যথারীতি বীরাঙ্গনা অর্চনা রানী সিংহ, পচী বেওয়া ও পাতাসী বেওয়া মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এরই মধ্যে তাদের প্রাপ্য ভাতার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ভাতার জন্য ঊর্ধ্বতন বরাবর চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

"