আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চুয়াডাঙ্গার হাসপাতালে ভিড়

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় কয়েক দিন ধরে চলছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বেশ গরম আবহাওয়া দিয়ে দিনের শুরু হচ্ছে। আর বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে রোদের তেজ। আবার সন্ধ্যা হতে না হতেই বইছে হিমেল হাওয়া, অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি আচরণে রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধছে শিশু-বয়স্কদের মধ্যে। কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি কাশি, গলাব্যথা, ভাইরাস ফিভার নিয়ে শিশু ও বয়স্কদের ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে।

গত তিন দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চার শতাধিক শিশু ও বয়স্করোগী। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা ও চিকিৎসাপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও সেবিকারা।

চিকিৎসকরা জানান, তাপমাত্রার এই তারতম্য জীবাণুর সংক্রমন বাড়ে। ফুসফুসের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। যে কারণে কখনো কখনো হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসারও প্রয়োজন পড়ছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক দিন আগেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা তেমন লক্ষ করা যায়নি। এ সময় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনে ঠা-াজনিতসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শুধু বহির্বিভাগে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ চিকিৎসা নিয়েছে ৫ শতাধিক রোগী। রোগীদের প্রায় সবাই আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। হাসপাতালের দুই মেডিসিন ওয়ার্ডে পা ফেলার জায়গা নেই। শিশু ওয়ার্ডেরও একই অবস্থা।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ নাসরিন বেগম জানান, তিন দিন আগে তার ছয় বছর বয়সি মেয়েটির বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরদিন থেকে জ্বর। গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়ে মেয়ের অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তিনি বড় ডাক্তার দেখাতে আজ (শুক্রবার) মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবির বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সাধারণ জ্বর ও ঠা-াজনিত রোগের উপদ্রপ হঠাৎ করে বেড়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু ও বয়স্ক। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ডা. শামিম কবিরের পরামর্শ, এই সময় নাকে-মুখে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। নিয়মমাফিক ভিটামিনযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান ও পূর্ণ বিশ্রাম নিলে এমনিতেই এসব রোগের হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে। এ সময় বেশি করে আদা ও লেবুর সরবত খেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে কাশির সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়াই উত্তম। সকাল-বিকেল কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করতে হবে। অনেক সময় ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা কাশি থেকেই সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, এই সময় মায়েদের একটু সতর্ক ও শিশুদের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

 

"