র‌্যাগিংয়ের নামে থাপ্পড় কানে শুনছেন না রাজন

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

র‌্যাগিংয়ের নামে থাপ্পড় দিয়ে এক শিক্ষার্থীর এমন অবস্থা হয়েছে যে, তিনি আর ভালো করে শুনতে পান না। অপারেশন করার দুই বছর পরও তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। এখনো তিনি ভালো করে ঘুমাতে পারেন না, কানে শোঁ শোঁ শব্দ শোনেন। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এসব কথা জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগ ৪৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী। ৪৫ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘থাপ্পড় দিয়ে কান ফাটিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ করেন তিনি। গত ২০ মার্চ বিকেলে একটি ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী মো. রাজন মিয়া। পরে বৃহস্পতিবার একই গ্রুপে দ্বিতীয় একটি পোস্টে তিনি অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করে তাদের বিচার দাবি করেন। তা ছাড়া অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেও জানিয়েছেন মো. রাজন মিয়া। অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা সবাই মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

ফেসবুকে রাজন উল্লেখ করেন, এক রাতে মীর মশাররফ হোসেন হলে ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ফাপর (র‌্যাগিং) দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা কিছু একটা বললে তিনি বুঝতে না পারায় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৫ ব্যাচের রাকিব হাসান সুমন ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব জামান অন্তু তাকে ১০-১২টি থাপ্পড় দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার সময় আবার এক শিক্ষার্থী তাকে থাপ্পড় দেন। মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার সময় তারা তাকে থাপ্পড়ের বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

এরপর সেখানকার চিকিৎসক সে চিকিৎসায় কান ভালো না হলে অপারেশন করানোর পরামর্শ দেন। সে সময় অনেকেই তাকে বিষয়টি সাংবাদিকদের না জানাতে ভয়ভীতি দেখান। এরপর বারবার চিকিৎসা করানোর পরও তার কান এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। কানে সমস্যার কারণে বিভিন্ন সময় তিনি কানে তুলা ব্যবহার করেছেন। এমনকি এখনো কানের ভেতরে শব্দ হয়, সে কারণে তিনি ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না।

মো. রাজন মিয়া বলেন, ঘটনাটি প্রায় দুই বছর আগের। প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। তারা আমাকে কাউকে বিষয়টি জানাতে নিষেধ করে। এই ঘটনার পর আমি ভালোমতো ক্লাস-পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারিনি। এ কারণে এটেন্ডেন্স-টিউটরিয়ালে নম্বর পাইনি। আমার সহপাঠী এবং শিক্ষকরাও জানেন আমি কানে তুলা দিয়ে ক্লাসে যেতাম। গতকাল আমি অভিযোগপত্র দিতে গিয়েছিলাম। তবে অভিযোগপত্রে তারিখ উল্লেখ না থাকায় তারা আবার লিখে দিতে বলেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে রাকিব হাসান সুমন বলেন, ‘শুধু শুধু কেন সে আমার নামে এমন একটি ব্লেইম দিচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। যারা ছাত্রলীগ করে তারা গণরুমে গেছে, ফাপর দিছে। এর মধ্যে আমার নামটা সে কেন যুক্ত করছে, আমি তাকে থাপ্পড় দিছি, তার কান ফেটে গেছে এটাই আমার মাথায় ঢুকছে না। আমি ওইদিন গণরুমে গিয়েছিলাম কি না এইটাই তো মনে নেই।’ তবে অন্য অভিযুক্ত সাকিব জামান অন্তুকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল হাসান বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

 

"