৩ দিনের ছুটিতে পর্যটকমুখর কক্সবাজার

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

কক্সবাজার প্রতিনিধি

‘কক্সবাজার তো অসাধারণ একটি জায়গা। এ সমুদ্রের সামনে এলেই মন ভালো হয়ে যায়। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশে ভ্রমণের জন্য কক্সবাজারের চেয়ে সুন্দর জায়গা আর হতে পারে না। একমাত্র এখানেই আমরা একসঙ্গে সাগর ও পাহাড়ের মেলবন্ধন দেখতে পাই। সপরিবারে কক্সবাজার বেড়াতে এসে এবারের অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।’

গতকাল শুক্রবার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে বালুকাবেলায় বসে এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক ফারিহা রহিম। শুধু ফারিহা দম্পতিই নন, গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া টানা তিন দিনের ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আবারও সমাগম হয়েছে লাখো পর্যটকে। নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো থাকায় সৈকত ও আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। সৈকতের পাশাপাশি পর্যটকরা সেন্টমার্টিন, রামুর বৌদ্ধবিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ইনানী হিমছড়িতে ভ্রমণ করছেন। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক তানিয়া বলেন, ‘শুধু আমি কেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কারণে অনেকের কাছে স্বপ্নের শহর এই কক্সবাজার। আমার কাছেও তাই। কক্সবাজার ভ্রমণের লোভ তো সবারই আছে। আর স্বপ্নের সেই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা, বালুকাবেলায় ছোটাছুটি আর লোনাজলে সমুদ্র স্নানের অনাবিল আনন্দে কে মুগ্ধ হবে না বলুন।’ এম মনিরুজ্জান রাসেল বলেন, সারা বছরই কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে হয়। ছুটি মেলানো কঠিন। তাই এবার ছুটি পেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার ছুটে এলাম। এখানে তিন দিন থাকব। অসাধারণ সময় কাটছে এখানে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ঘিরে শুক্রবার থেকে টানা তিন দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। এখানকার চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউসের প্রায় সবকটি বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। লাবণী সৈকতসংলগ্ন হোটেল ফু ওয়াং ডমিসেন রিসোর্টের ব্যবস্থাপক শেখ কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, আমাদের হোটেলের সবকটি রুমই ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবাটুকু দিতে। সেবা পেয়ে পর্যটকরাও সন্তুষ্ট। হোটেল দি কক্স-টুডের ব্যবস্থাপক আবু তালেব বলেন, গরম চলে আসছে। আমরা মনে করছি, এই মৌসুমের শেষ চাপ এটি। টানা তিন দিনের শেষ ছুটি হিসেবে এবার পর্যটকদের সাড়া বেশ ভালো। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি ভালো সেবা দেওয়ার জন্য। কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মাহমুদুল আলম। তিনি বলেন, শুধু কক্সবাজার সৈকত নয়, সৈকতের আশপাশে যেসব পর্যটন কেন্দ্রগুলো আছে হিমছড়ি, ইনানীসহ সেন্টমার্টিনও ভ্রমণকারী পর্যটকদেরও টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এই তিন দিনের বাড়তি চাপ সামলানোর পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ব্যস্ততম বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।

 

"