সংসদে জিএম কাদের

জাপা কৃত্রিম বিরোধী দল না : তবে নির্বাচন করেছি আ.লীগ জোট থেকে : জিএম কাদের

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় পার্টি (জাপা) সংসদে কৃত্রিম বিরোধী দল নয় বলে দাবি করেছেন সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা ও দলটির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিরোধী দল কৃত্রিমভাবে তৈরি, এটা কিছুটা সত্য কথন হতে পারে, কারণ জাপা সরকারি দল আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছে। তবে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বিরোধী দল নয়। গতকাল সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ও অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি জাপাকে নিয়ে জনমনে সৃষ্ট প্রশ্ন সম্পর্কে এ জবাব দেন। বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের অনুপস্থিতিতে বিরোধী দলের পক্ষে মূল বক্তব্য দেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, অনেকে বলেন সবকিছু পাতানো খেলা। জাপা সরকারি জোটে থেকে নির্বাচন করেছে, এজন্য তারা মনে করছেন এখন হয়তো বিরোধী দলে থেকেও জাপা কার্যত সরকারের পক্ষ হয়েই কাজ করবে। বর্তমান যে সংসদীয় ব্যবস্থা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, তাতে এখানে যারাই বিরোধী দলে থাকুক না কেন ফল কী হবে সবাই জানে। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দলের সদস্য সেই দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন না। যার কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই হবে। এ ব্যবস্থায় সব সময় জিতে সরকারি দল আর বিরোধী দল সব সময় সংসদে হারে। আমি মনে করি, এটাই আসলে পাতানো খেলা। সেই কারণে আমি বলব, আসলে ’৯০ এর পর থেকে প্রতিটি সংসদই পাতানো খেলা। আমরা যদি সংখ্যায় আরো বেশি থাকতাম, বেশি করে হইচই করতে পারতাম, দেখতে সংসদকে প্রাণবন্ত মনে হতো। কিন্তু বাস্তব অবস্থা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারতাম না। তিনি তার বক্তব্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের আপত্তিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েও পরে সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি।

এরশাদের জন্য দোয়া চাইলেন স্ত্রী রওশন : জিএম কাদেরের আগে দেওয়া বক্তব্যে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ অসুস্থ স্বামী ও বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেব অসুস্থ। তবে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি, সুস্থ হয়ে তিনি সংসদে আসতে পারবেন। তার জন্য আমি সবার কাছে শুভ কামনা ও দোয়া চাচ্ছি।’

রওশন বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে ঐকমত্য প্রয়োজন। ঐকমত্য ছাড়া উন্নয়ন-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রপতিও তার ভাষণে বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া শান্তি স্থায়ী রূপ পায় না। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেশকে পরিচালনা করতে হলে ঐকমত্যের বিকল্প নেই। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।

দশম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন বলেন, ‘দশম সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আমরা গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছি। সবাই আন্তরিকভাবে মিলেমিশে কাজ করেছি। সরকারের প্রতিটি উন্নয়নে আমরা সহযোগিতা করেছি। আমার মনে হয়, স্বাধীনতার পর কেন সংসদ এত সুন্দরভাবে চলেনি। অতীতে আমরা দেখেছি, যখনই সরকার উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়, তখনই বিরোধী দল বাধা দিয়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে।’

তিনি বলেন, ’৯৬-এর পর থেকেই মূলত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা শুরু হয়। এর আগে উন্নয়ন থেমে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সঠিকভাবে পালনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এমনভাবে পালন করতে হবে যেন এটা মাইলফলক হয়ে থাকে। রওশন বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য কোটা রাখা দরকার।

ফেসবুক সীমিত সময়ের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব রেখে তিনি বলেন, এটা করলে শিক্ষার্থীরা শান্তিমতো ঘুমাতে পারবে, ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারবে। কারণ ফেসবুক অনেক অশান্তি সৃষ্টি করে।

 

"