টিআইবির গবেষণা

‘আদিবাসীরা’ বেশি বৈষম্যের শিকার

প্রকাশ | ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠী সমাজে ব্যাপকভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে। টিআইবি এ বৈষম্য নিরসনে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে। এক বছর ধরে চালানো গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল। আদিবাসী ও দলিতদের সেবাদানে ঘাটতি চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠী : অধিকার ও সেবায় অন্তর্ভুক্তির চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে গতকাল রোববার টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীরা সমাজে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। তাদের বসবাস ও চাষাবাদের অধিকার খর্ব ও প্রথাগত ভূমি মালিকানার ভিত্তিতে ভোগ করা জমি প্রভাবশালীরা ভুয়া দলিল করে দখল করছেন। এর বিচার পাচ্ছে না আদিবাসীরা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আদিবাসী ও দলিতরা আলাদা জনগোষ্ঠী হলেও তাদের পৃথক কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তিতে বাধা, নিজ ধর্ম শিক্ষার বিষয়ে পড়ার সুযোগ না দেওয়া, নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানে অনিয়ম করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, দরিদ্র ও অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। উপকারভোগী নির্বাচনে আদিবাসী ও দলিত প্রতিবন্ধী, বয়স্ক পুরুষ, বয়স্ক ও বিধবা নারী, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের অগ্রাধিকার না দিয়ে তুলনামূলক সচ্ছলদের অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে। প্রচলিত আইনের বিভিন্ন নেতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি চাকরিবিধি-২০১৪ এর ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব কোটা রহিতকরণের ফলে উপজাতিদের জন্য ৫ শতাংশ কোটাও বিলুপ্ত হয়েছে।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীরা নানাভাবে আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেÑ এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে নানাভাবে তারা পিছিয়ে পড়ছে।

এসব সমস্যা সমাধানে আদিবাসীদের পৃথক পৃথক জাতিসত্তা ও দলিতদের পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতিদান এবং আদিবাসী-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ সমূহ স্বাক্ষর নিশ্চিত করা, যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের স্বীকৃতিদান এবং অধিকার ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বিশেষায়িত মন্ত্রণালয়ে আন্তর্ভুক্তি, খসড়া বৈষম্য বিলোপ আইন চূড়ান্ত করে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ, সব আদিবাসী ও অবাঙালি দলিত শিশুদের নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের মাতৃভাষায় পাঠ্যবই প্রণয়ন ও পাঠদানে শিক্ষক নিয়োগ, চাকরিতে নির্ধারিত কোটা বহাল, ভূমি সমস্যার কার্যকর সমাধান ও ভূমি কমিশন গঠনসহ ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ।

 

"