আজ রাজশাহীর ৮ উপজেলায় ভোট

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ আজ। প্রথম ধাপে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় তফসিল হলেও নির্বাচন হবে আটিটতে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে পবা উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে না। বাকি আট উপজেলায় ৫২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তার কথা জানিয়েছেন পুলিশ ও নির্বাচন কর্মকর্তারা। পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আট উপজেলায় ৬৯ প্রার্থীর মধ্যে চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও থাকছে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। এতে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা পুলিশের প্রায় ২ হাজার সদস্য। রাজশাহী বিজিবি-১ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের দিন ২০ থেকে ২৫ প্লাটুন বিজিবি মাঠে থাকবে।

সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১৫ পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। আর সাধারণ কেন্দ্রে থাকবে ১৩ জন। গোদাগাড়ী উপজেলায় ৯৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ, তানোরে ৫১ কেন্দ্রে মধ্যে ২৮টি, বাগমারায় ১০৬টির মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্গাপুরের ৫৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি, পুঠিয়ায় ৬৩ ভোটকেন্দ্রের ৩৪টি, চারঘাটে ৫২টির মধ্যে ২৮টি, মোহনপুরের ৪৪টির মধ্যে ২৩টি এবং বাঘা উপজেলার ৫৯ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। তার প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও সদ্য ওয়ার্কার্স পাটিতে যোগ দেওয়া শরীফুল ইসলাম। গোদাগাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন চারজন প্রার্থী। এরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান, জাতীয় পার্টি নেতা সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস ও ওয়ার্কার্স পাটির সাইদুর রহমান। চারঘাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফকরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টিপু সুলতান ও জাতীয় পার্টি থেকে লড়ছেন ইকবাল হোসেন। বাগমারা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলটির জেলার সহ-সভাপতি অনীল সরকার। তার বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বাবুল হোসেন। দুর্গাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিপরীতে ভোটের মাঠে লড়ছেন একই দলের দুজন প্রার্থী। এরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সরদার এবং উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের। পুঠিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত জি এম হিরা বাচ্চু ও জাতীয় পার্টির আনসার আলী। বাঘা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু। মোহনপুর চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আবদুল সালাম।

 

"