ছাত্রদলের ইশতেহারে মেধায় আসন বণ্টনের অঙ্গীকার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ইশতেহার ঘোষণা করল ছাত্রদল। গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে প্যানেলের পরিচিতি সভায় ১৫ দফা সংবলিত এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা করেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় সেখানে ডাকসু ও হল সংসদ প্যানেল প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারে ছাত্রদলের অঙ্গীকারগুলো হলো ডাকসু নির্বাচনের মূল ভিত্তি হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে আধিপত্য ও সন্ত্রাসবাদ মুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ ও সচল করা হবে পরিবেশ পরিষদ। আবাসন সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণ ও পুরোনো হল সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রথম বর্ষ থেকেই আসন বণ্টন হবে মেধার ভিত্তিতে।

ছাত্রদলের ইশতেহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ রূপে আধুনিক ও বিশ্বমানে গ্রন্থাগারে রূপান্তর এবং পরিপূর্ণ ডিজিটালাইড করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ এবং হল গ্রন্থাগারগুলো সমৃদ্ধ করা। শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট নিরসনে বাসের সংখ্যা ও রুট বৃদ্ধি করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা’ চালু করা।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের মান বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে ডাকসুর মাধ্যমে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধ ও শিক্ষা ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। শিক্ষার্থীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা। ছাত্রী হলগুলোয় প্রবেশের সময়সীমা রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ানো ও কমনরুমগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। ছাত্রদলের ঘোষিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, এমফিল, পিএইচডিসহ সব গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো। প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা বিনির্মাণে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক ভবন ও হলসহ সমগ্র ক্যাম্পাস ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। ভর্তি ও একাডেমিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধ ও রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ রোধে ডাকসু সর্বদা সোচ্চার থাকবে।

ইশতেহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতা বিকাশে সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন ও এক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানো। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা এবং সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে ডাকসু। ইশতেহার ঘোষণা শেষে ছাত্রদল একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন হয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে শেষ হয়

 

"