তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
ama ami

এক তরুণীকে রাতভর ডাকবাংলোয় আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল রোববার ওই তরুণী দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন সাটুরিয়া থানার উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম। ওই তরুণীকে নিয়ে তার প্রতিবেশী খালা পাওনা টাকা চাইতে গিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা সেকেন্দারের কাছে।

আশুলিয়ায় কাইছাবাড়ী এলাকার রহিমা বেগম জানান, উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন আশুলিয়া থানায় কর্মরত থাকার সময় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়ে জমি কেনেন। কথা ছিল জমি বিক্রির লাভ তাকে দেওয়া হবে। সে হিসেবে তিনি সেকেন্দার হোসেনের কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা পাবেন। কিন্তু সেকেন্দার টাকা না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন। সাটুরিয়া থানায় পোস্টিং নিয়ে আসার পরও সেকেন্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ওই তরুণী গত বুধবার বিকেলে প্রতিবেশী ভাগ্নিকে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় আসেন। এরপর সেকেন্দার টাকা দেবেন বলে তাদের সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সন্ধ্যার পর সাটুরিয়া থানার এএসআই মাজহারুল ইসলামকে ডাকবাংলোতে নিয়ে যান সেকেন্দার। রাতে ডাকবাংলোর একটি কক্ষে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াবা সেবন করেন এবং ওই তরুণীকেও অস্ত্রের মুখে জোর করে ইয়াবা সেবন করান। এরপর দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওই তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করেন। পরের দিন সেকেন্দারের হুমকির মুখে এবং টাকা দেওয়ার আশ্বাসে ডাকবাংলোতেই আটকে রাখেন। সন্ধ্যার পর দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসে আবার ইয়াবা সেবন করে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরের দিন শুক্রবার সকালে সেকেন্দার তাদের পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে সাটুরিয়া থেকে বিদায় করে দেন।

ওই তরুণী জানান, অস্ত্রের মুখে আটকে রেখে তাকে দুই রাতে ও এক দিনে একাধিকবার ধর্ষণ করেন পুলিশ কর্মকর্তা সেকেন্দার ও মাজহারুল। এ সময় তারা বলেন, ধর্ষণের কথা কাউকে বলে দিলে মেরে লাশ গুম করা হবে। শুক্রবার ছাড়া পাওয়ার পর তিনি খালার সঙ্গে বাড়ি চলে যান। বিষয়টি আশুলিয়া সাভারের পরিচিত সাংবাদিকদের জানান। তাদের সহযোগিতায় শনিবার রাতে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়। এরপর গতকাল রোববার মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে, জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন জানান, কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। এক তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও ইয়াবা সেবন প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।

সাটুরিয়া ওসি আমিনুর ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে পাওনা টাকা নিয়ে উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে ওই নারীকে কথা-কাটাকাটি করতে দেখা গেছে। ওই সময় তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে কোনো অভিযোগ দেয়নি কেউ। শনিবার রাতে পুলিশ সুপার অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেন। পরে জানা গেছে তাদের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে পুলিশ সুপারের কাছে।

এ ব্যাপারের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, শনিবার রাতে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাটুরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্তি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"