আসামির সঙ্গে নামে মিল : গ্রেফতার আতঙ্কে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:১৩

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার একটি মামলায় আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঝালকাঠির নলছিটির মো. রুহুল আমিন খান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। নলছিটি উপজেলার মালুহার গ্রামের মৃত আশ্রাফ আলী খানের ছেলে রুহুল আমিনের বয়স বর্তমানে ৫০ বছর। সোনারগাঁ থানার যে মামলায় রুহুল আমিনের নামে নলছিটি থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা এসেছে সেই রহুল আমিনের বয়স ৩০ বছর। এ অবস্থায় গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন নলছিটির মো. রুহুল আমিন খান ও তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শনিবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার পুরনো কাঁচপুর এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৩০০ বস্তা হোলসিম সিমেন্টসহ একটি ট্রাক ঢাকা মেট্রো ট-১১-৯৯৩৭ গতিরোধ করে কাগজপত্র দেখতে চায়। ট্রাকের চালক ও হেলপার কাগজপত্র নিয়ে ডিবি পুলিশের মাইক্রোবাসের কাছে গেলে কয়েকজন ডিবি পুলিশ ট্রাকটি চালিয়ে ঢাকার দিকে নিয়ে যায়। চালক ও হেলপার চিৎকার শুরু করলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারীরা মাইক্রোবাসটিও চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তেজগাঁও থেকে সিমেন্ট ভর্তি ট্রাক উদ্ধার করে ও দুজনকে আটক করে। এ ব্যাপারে সিমেন্ট ও ট্রাকের মালিকপক্ষ সোনারগাঁ থানায় মামলা করে। মামলায় আটক দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতার দুজন নিজেদের মোশারফ হোসেন, পিতা আলী হোসেন, গ্রাম আজিমপুর, খানা কাজিরহাট, জেলা বরিশাল এবং অপরজন মো. রহুল আমিন, পিতা মৃত আশ্রাফ আলী খান, গ্রাম মালুহার, থানা নলছিটি, জেলা ঝালকাঠি বলে জানায়। পরে সোনারগাঁ থানা পুলিশ আসামিদের নাম ঠিকানা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন কথিত মো. রুহুল আমিন। মামলাটি বিচারের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে এলে বিচারক পলাতক আসামি মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কয়েক মাস আগে নলছিটি থানায় সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা আসে। নলছিটি থানা পুলিশ মো. রহুল আমিনকে খুঁজতে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. রুহল আমিন খানের বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গ্রেফতার থেকে বাঁচতে মো. রহুল আমিন খানের পরিবারের সদস্যরা নলছিটি থানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিস্তারিত জানতে পারেন।

মো. রুহুল আমিন খান জানান, তিনি ২০০৯ সালের ৫ মে সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কখনো নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ যাননি। যে মামলায় ওয়ারেন্ট এসছে সেখানে আসামির নাম মো. রুহুল আমিন বয়স ৩০, আর আমার নাম মো. রুহুল আমিন খান, বয়স ৫০। তবে বাবার নাম এবং গ্রামের ঠিকানায় মিল রয়েছে। যার কারণে নলছিটি থানা পুলিশ আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে আমি গাঢাকা দিয়ে থাকছি।

রুহুল আমিন খান বলেন, মূল অপরাধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়ে তার নাম ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এ হয়রানি থেকে বাঁচতে তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, নারায়ণগঞ্জ আদালত এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নলছিটি থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রুহুল আমিনের নামে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা আমাদের কাছে এসেছে। কিন্তু আসামির বয়সের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি সোনারগাঁ থানাকে জানিয়েছি।

"