৩৩ শতাংশ যাত্রীবাহী গাড়ির ফিটনেস নেই!

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ৩৩ শতাংশ যাত্রীবাহী বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। এ ছাড়া ৫৬ শতাংশের গতি নিয়ন্ত্রক সিল ঠিক নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে ৩৯টি বাসের ওপর জরিপ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানির উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের জানিয়েছেন। আদালতে বিআরটিএ’র পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। এ সময় রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. তানভির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জরিপের সীমাবদ্ধতা হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিটি কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত সময় ও স্থান অনুযায়ী সার্ভে করা হয়। ধারণা করা হয় সার্ভের বিষয়টি কোনো না কোনোভাবে প্রকাশ হওয়ায় অনেক যানবাহন (সম্ভবত খারাপ) সংশ্লিষ্ট স্থান ও সময় এড়িয়ে চলেছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধে, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে আনফিট বা ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সমস্যার ব্যাপকতা ও তার মাত্রা বোঝার জন্য যানবাহনের বিশেষ করে গণপরিবহনের ওপর বিজ্ঞানভিত্তিক সার্ভে পরিচালনা করা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে কোনো বিশেষায়িত গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা করা যেতে পারে। পরে তানভির আহমেদ বলেন, এর আগে হাইকোর্ট ১৬ সদস্যের একটি কমিটি করে জাতীয়ভাবে সারা দেশের পরিবহনগুলোর ওপর একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই আলোকে একটি প্রতিবেদন বিআরটিএ আদালতে দাখিল করেছেন।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ৩৩ শতাংশ যাত্রীবাহী বাসের ফিটনেস নেই এবং ৫৬ শতাংশ বাসের গতি নিয়ন্ত্রক সার্টিফিকেট নেই। এ ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা রোধের কারণ ও রোধের বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত একটি পর্যবেক্ষণ করতেও প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে শুনানির উদ্যোগ নেবেন বলে জানান আইনজীবী তানভীর আহমেদ। আদালতের নির্দেশে ফিটনেসহীন পরিবহনের তালিকা করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধিকে আহ্বায়ক করে এবং বিআরটিএ’র সচিবকে সদস্য সচিব ঘোষণা করে ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, পুলিশ সদর দফতর, হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপদ অধিদফতর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগ, বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির একজন করে প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদকে ওই কমিটির সদস্য রাখা হয়।

 

"