রাতে রিকশাচালক দিনে ছাত্র

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো
ama ami

২০০১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় কবিরের বাবার মৃত্যু হয়। এরপর মা খোরেছা বেগম বিয়ে করে থাকেন অন্য জায়গায়। সংসারে দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় সে। বাধ্য হয়ে সংসারের হাল ধরতে হয় তাকেই। আর তাই একদিন রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে কবির। রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোনোরকমে চলে সংসার। এত ঝড়ঝঞ্ঝা আর অভাব অনটনের মাঝেও লেখাপড়া বন্ধ করেনি সে। কবিরের জীবন সমাজের আট দশজন কিশোরের মতো নয়। কঠোর সংগ্রামের ব্রত নিয়ে চলছে তার জীবন। চোখে মুখে বড় হওয়ার স্বপ্ন। তাই এখন দিনে স্কুল আর রাতে রিকশা চালায় রংপুর নগরীর রবার্টসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র কবির।

কবিরের বাড়ি রংপুর নগরীর স্টেশন বাবুপাড়া এলাকায়। নানী শ্রোতন নেছাসহ ভাই-বোনদের নিয়েই তার সংসার। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর নিসবেতগঞ্জের ঘাঘটের সেনাপার্ক মোড়ে প্রতিদিনের সংবাদের এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় কবিরের । কবির জানায়, নগরীর কুঠির পাড়ার ইউসেফ স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ করে রবার্টসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে সে। স্বপ্ন ছিলো মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে সুখের একটি সংসার হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। বাবার মৃত্যুর পর মা বিয়ে করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। নানীকে নিয়ে অভাব অনাটনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে । এরপরও রয়েছে লেখাপড়ার খরচ। তবুও হাল ছাড়তে নারাজ কবির। কবির জানায়, লেখাপড়া করে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। ‘রিকশায় চালানো অর্থ দিয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমের বিয়ে দিয়েছি। অন্যের ভাড়া করা রিকশা চালিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়ে অনেক কষ্ট করে সংসার চলে।’ কবিরের সহপাঠি স্টেশন বাবুপাড়া এলাকার সুজন জানায়, রাতে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে কবির। মধ্যরাত পর্যন্ত রিকসা চালায় কবির।

কবিরের নানী শ্রোতন নেছা জানান, অনেক কষ্ট করে নাতি-নাতনিদের নিয়ে স্টেশন এলাকায় সরকারি জায়গায় বসবাস করছি। কখনো কোনো মহল থেকে সহযোগিতা পাইনি। নাতির ভাড়ায় নেওয়া রিকশা চালিয়ে যে টাকা উর্পাজন হয়। তাই দিয়ে সংসার চলে। নানী শ্রোতন নেছা আরও জানান, কবির নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। রিকশা চালিয়ে স্কুলে যাওয়া ও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। তিনি বলেন, এমন উদ্যোমি ছেলের প্রতি সরকার কিংবা কোনো সহৃদয় কেউ সহানুভুতির দৃষ্টি দিলে কবিরের স্বপ্ন হয়ত পূরণ হতে পারে।

"