বছরের শুরুতে অস্থির চাল-আটার বাজার

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

নতুন বছরের শুরুর তৃতীয় সপ্তাহে এসেই চাল, আটা ও ময়দার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। মানভেদে চালের দাম ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসেবে কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা। এদিকে আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২ টাকা।

ক্রেতাদের অভিযোগ, মিলমালিকরা কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে মিলমালিকদের একটি পক্ষ দাবি করছে, চালের দাম স্বাভাবিক অবস্থাতেই রয়েছে। তারা সরকারের নির্ধারিত দামেই চাল বিক্রি করছে। আর ব্যবসায়ীদের একপক্ষ বলে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দাম কমে স্বাভাবিক হবে। কারণ বর্তমানে চালের কোনো ঘাটতি নেই। গম আমদানিকারক ও আটা বিপণনকারীদের দাবি, বিশ্ববাজারে গমের দাম বেশ বেড়েছে। সে অনুপাতে দেশে আটার দাম বাড়েনি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় দিন, বুধবার থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ভালো মানের মিনিকেট চালের কেজি ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা, যা নির্বাচনের আগে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। সে হিসেবে কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা। মাঝারি মানের চালের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে মাঝারি মানের চাল বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। কেজিতে দাম বেড়েছে ৬ টাকা। কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল, যা নির্বাচনের আগে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

ঢাকার মহাখালী কাঁচাবাজারের রাইস স্টোরের ব্যবসায়ীরা বলেন, তিন-চার দিন থেকে চালের দাম বেড়েছে। প্রথমে রশিদ, এরপর একে একে সব কোম্পানি চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২৬০০ থেকে ২৬৫০ টাকা। এখন সেই চাল বিক্রি করছি ২৭৫০ টাকায়। ১৯৫০ টাকা বিক্রি করা বিআর-২৮ চালের বস্তা এখন বিক্রি করছি ২২৫০ টাকায়।

তারা আরো বলেন, হঠাৎ কী কারণে চালের দাম এমন বাড়ল কিছুই বুঝতে পারছি না। মিলমালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে চালের দামের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সময় ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাস। ওই সময় খুচরা বাজারে মোটা চালের দর কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় উঠেছিল। আর সরু চাল উঠেছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকায়। এরপর বাড়তি আমদানি ও ২০১৮ সালের শুরুতে বোরোর মৌসুমের ভালো ফলনে চালের দাম কমে।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আটা ও ময়দার দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা করে বেড়েছে। আটা প্রতি দুই কেজির প্যাকেট ৭০ টাকা ও ময়দা ৯২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদফতরে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চাল ব্যবসায়ী সমিতি, আড়তদার ও অটো চাল মিলমালিকদের মতবিনিয়ময় সভায় সদ্য দায়িত্ব নেওয়া খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার বলেছেন, বাজারে অযৌক্তিক কারণে অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশ হিসেবে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি অনেক আগে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি চাল ও খাদ্যশস্য মজুদ আছে। তার পরও চালের দাম বাড়বে কেন?

তিনি বলেন, আমি বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টদের ডেকেছি। আমরা এখানে বিস্তারিত কথা বলব। এর সমাধানের উপায় খুঁজে বের করব। কারণ বিষয়টি একেবারেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মতবিনিময় সভায় নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক নেতা নায়েব আলী বলেন, আমরা জাস্ট ধান কিনে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে চাল বিক্রি করি। এখানে সামান্য লাভ রেখে আমরা চাল ছেড়ে দেই। চালের দাম বাড়ার বিষয়টি আমাদের ওপর বর্তায় না। এটা প্রতিরোধে খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতি নজর দিতে হবে।

এদিকে রাজধানীর অধিকাংশ কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় গড়ে প্রতি কেজি সবজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। গতকাল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেগুনের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা ও সিম ৩০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি আকারভেদে ২০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ২৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, মুলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ধনিয়াপাতা এক আঁটি ১০ টাকা, কাঁচাকলা হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস আকারভেদে ৬০ থেকে ৫০ টাকা।

এ ছাড়া কচুর ছড়া ৪০ টাকা ও লেবুর হালি ২৫ টাকা। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি ১৪৫ টাকা, কক মুরগি ২২০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি মুরগি ২৪০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৮০-৫০০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি।

"