সুবর্ণচরে গণধর্ষণ

প্রধান আসামিসহ আরো দুজনের দোষ স্বীকার

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

নোয়াখালী প্রতিনিধি
ama ami

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের এক গ্রামে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে নারীকে (৪০) গণধর্ষণের ঘটনায় আরো দুই আসামি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এরা হলো মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. সোহেল ও তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততায় গ্রেফতার হওয়া জসিম উদ্দিন। গতকাল বুধবার বিকেলে নোয়াখালীর ২ নম্বর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহ আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। দুই আসামি মো. সোহেল ও জসিম উদ্দিন রিমান্ডে আছে। এখনো ধরা পড়েনি এ মামলার তিন আসামি।

সোহেল ও জসিম উদ্দিনের জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, পাঁচ দিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিনে সোহেল ও জসিম উদ্দিন আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। পরে বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। জবাবন্দিতে তারা ওই নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এর আগে গত সোমবার গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় আবুল (৪০) ও ছালা উদ্দিন (৩৫)। এ নিয়ে এ ঘটনায় চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল।

এখনো ধরা পড়েনি তিন আসামি : নারীকে মারধর ও গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজহারভুক্ত তিন আসামি এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তারা হলো ২ নম্বর আসামি হানিফ (৩০), ৪ নম্বর আসামি চৌধুরী (২৫) ও ৮ নম্বর আসামি মোশারফ (৩৫)। এ প্রসঙ্গে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সফলতা পাওয়া যেতে পারে।

আইনি সহায়তার ঘোষণা : সুবর্ণচরের গণধর্ষণের শিকার সেই নারীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে নোয়াখালী আইন সহায়তা কমিটি ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। গতকাল নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

ব্রিফিংয়ে নোয়াখালী আইন সহায়তা কমিটির আহ্বায়ক গোবিন্দ চন্দ্র দাস লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘নির্যাতিত নারীকে সব আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ আইনি সহায়তার মাধ্যমে তারা ওই নারীর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাতে ধর্ষকরা কোনোভাবে আইনের ফাঁকে বের হতে না পারে। ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে আইনি সহায়তা কমিটি করা হয়েছে। আমরা সব সময় নির্যাতিত নারীদের পাশে আছি।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা আহ্বায়ক ও সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) কাজী মানছুরুল হক, আইনি সহায়তা কমিটি নোয়াখালীর সদস্য সচিব সহিদ উল্যা, সদস্য রিপন চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

"