পরকীয়া ও যৌতুক

পিটিয়ে ও কুপিয়ে ৩ গৃহবধূকে হত্যা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ama ami

যৌতুক দাবিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এবং পরকীয়ার জেরে নওগাঁর রানীনগরে ও নরসিংদীর পলাশে মোট তিন গৃহবধূকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের স্বামীর বিরুদ্ধে। প্রতিনিধি ও ব্যুরো অফিসের পাঠানো খবরÑ

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পল্লীতে যৌতুকের দাবিতে শিউলি খাতুন (৩৫) নামে দুই সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন তার স্বামী আনিচুর রহমান। গতকাল সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড় ডাউটি গ্রামে। নিহত শিউলি উপজেলার দামোদরপুর গ্রামের মৃত সলেমান বিশ্বাসের মেয়ে।

শিউলির ভাই শামিম হোসেন বলেন, ১০ বছর আগে জামাল ইউনিয়নের সাহেব আলীর ছেলে আনিচুর রহমানের সঙ্গে তার বোন শিউলি খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তার বোনজামাই আনিচুর রহমান যৌতুক দাবিতে প্রায়ই শিউলিকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিত। গত ৬ দিন আগেও তার বোনকে ২ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য বেধড়ক মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিউলিকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সোমবার শিউলী মারা যায়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুলতান আহমেদ জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইউনুচ আলী জানান, থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে আসামিকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

রানীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রানীনগরে নাছিমা বেগম (৩২) নামে দুই সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। গত রোববার রাতে উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রাম সৌদিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রানীনগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে গতকাল সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় দঁড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

জানা গেছে, উপজেলার গোনা ইউনিয়নের পিরেরা গ্রামের নবাব আলী ওরফে লবা সরদারের মেয়ে নাছিমা বেগমের সঙ্গে ১৪ বছর আগে একই উপজেলার ঘোষগ্রাম সৌদিপাড়া গ্রামের আতুল প্রামানিকের ছেলে মো. এলাহী বক্সের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। স্বামীর পরকীয়া নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলত। এ নিয়েই স্বামী তাকে প্রায়ই মারধর করত। একইভাবে গত রোববার রাতে মারধরে সে অচেতন হয়ে পড়ে। তখন এলাহী ও তার পরিবারের লোকজন কৌশলে গলায় রশি (দঁড়ি) দিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যেতে মাঝপথ থেকে আবার লাশটি বাড়িতে ফেরত নিয়ে আসে। এর পর থেকে গৃহবধূর স্বামী ও স্বামীর পরিবারের লোকজন পলাতক।

পলাশ (নরসিংদী) : পরকীয়া সন্দেহে নরসিংদীর পলাশে শাহানাজ আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী এরশাদুল ইসলামসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এরশাদুল ইসলাম ডাঙ্গা ইউনিয়নের চরকা টেক্সটাইলে শ্রমিকের কাজ করতেন। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গৃহবধূ শাহানাজ আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে প্রায়ই সংসারে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। গতকাল সোমবার সকালে ফরহাদ মিয়ার সঙ্গে আবারও মোবাইলে শাহানাজ কথা বললে এরশাদুল ইসলাম টের পেয়ে তাকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এ ব্যাপারে পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণ করা হচ্ছে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে। গৃহবধূর স্বামী এরশাদুল ইসলাম ও ফরহাদ মিয়াকে আটক করা হয়েছে। গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

"