থেরেসা মেকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিল ইইউ

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের (এমপি) আপত্তির মুখে সম্পাদিত চুক্তির কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দরবারে গিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন ইইউর নেতারা। গত বৃহস্পতিবার ইইউ নেতাদের সম্মেলন শেষে বলা হয়, সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো সমঝোতা হবে না। কেবল চুক্তির অস্পষ্টতা দূর করতে ব্যাখ্যা দিতে রাজি তারা।

এ অবস্থায় ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভালোই বিপাকে পড়লেন থেরেসা মে। কারণ সংসদে এমপিদের সমর্থন মিলবে না, এমন আশঙ্কায় চুক্তির ওপর গত সোমবারের নির্ধারিত ভোটাভুটি পিছিয়েছেন তিনি। চুক্তি নিয়ে বিরোধের কারণে গত বুধবার নিজ দলের এমপিদের আস্থা ভোটের মুখে পড়েন মে। সেই ভোটে টিকে গেলেও তার নিজ দলের ১১৭ জন এমপি তার নেতৃত্বের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমন অবস্থায় কাক্সিক্ষত সংশোধন ছাড়া ওই চুক্তি সংসদের অনুমোদন পাবে না- এটি স্পষ্ট।

সম্পাদিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিচ্ছেদের পর যুক্তরাজ্য ও ইইউ যদি এমন কোনো বাণিজ্য চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, যা আয়ারল্যান্ড সীমান্তে তল্লাশিচৌকি স্থাপনকে অনিবার্য করে তুলবে, সে ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার স্বার্থে যুক্তরাজ্যের অংশ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইইউ আইনের অধীনে থাকবে। এই ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘ব্যাক স্টপ’। সীমানা উন্মুক্ত রাখার মতো বিকল্প কোনো সম্পর্ক স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বজায় থাকবে। যুক্তরাজ্য এককভাবে এর থেকে সরতে পারবে না।

এটি নিয়েই যুক্তরাজ্যের সরকারবিরোধী সব দলের এমপিদের আপত্তি। তারা বলছেন, অনির্দিষ্টকালের এ ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যকে ইইউর অধীন করে রাখবে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের বাকি অংশ থেকে আইনিভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

এমন আপত্তি নিরসনে ‘ব্যাক স্টপ’ বিষয়ে নতুন করে কথা বলতে ইইউতে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী মে। ‘ব্যাক স্টপ’ ব্যবস্থা যাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য না হয় এবং যুক্তরাজ্য যাতে এই ব্যবস্থা থেকে এককভাবে সরতে পারে, সে রকম আইনি নিশ্চয়তার অনুরোধ জানান তিনি। মে বলেন, এমন নিশ্চয়তা ছাড়া ব্রেক্সিট চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। চুক্তিটি সংসদে পাস করিয়ে নিতে ইইউ নেতাদের সহায়তা চান তিনি।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেন, চুক্তি বা ব্যাক স্টপ নিয়ে নতুন কোনো সমঝোতা হবে না। চুক্তিতে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে সেটির বিষয়ে তারা ব্যাখ্যা দিতে রাজি। তিনি আরো বলেন, ১৯ ডিসেম্বর ইইউ চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের প্রস্তুতির বিষয়ে জানান দেবে। জাঙ্কার বলেন, ‘আমরা কী চাই, সেটা জানতে চাওয়ার বদলে যুক্তরাজ্যকে পরিষ্কার করে বলতে হবে, তারা আমাদের কাছে কী চায়।’

 

"