আর্থিক খাতের উন্নয়ন প্রচারে ব্যাংকের এমডিরা

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আর্থিক খাতের উন্নয়ন প্রচার করতে মাঠে নেমেছেন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপে ব্যাংক খাতের ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য দেওয়ার তিন দিন পরই মাঠে নামলেন তারা। এই প্রচারে গত ১০ বছরের উন্নয়ন তুলে ধরা হচ্ছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। এতে সরকারি-বেসরকারি খাতের ৩০টির বেশি ব্যাংকের এমডি উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংকের নির্বাহীরা বলেন, দেশের অর্থনীতি অনেক বড় হয়েছে। জিডিপি, মাথাপিছু আয়সহ বেশিরভাগ সূচকেই উন্নতি হয়েছে। এসব উন্নয়নের মূল ভূমিকা পালন করছে ব্যাংকিং খাত। তাই অর্থের জোগানের প্রধান এ খাতকে শক্তিশালী করতে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এবিবি চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ১০ বছরের বিভিন্ন আর্থিক সূচকের উন্নতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এতে বড় অবদান রাখছে দেশের ব্যাংক খাত। আপনারা এর ভালো দিকগুলো তুলে ধরবেন। জনগণের কাছে ব্যাংক খাত নিয়ে শুধু খারাপ খবরই যায়। খাতভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে কয়েকজন এমডি জানান, এখন দেশের জয়গাথা গাওয়ার সময় এসেছে। ব্যাংক খাতের যেসব খারাপ ঘটনা আছে তা সংবেদনশীলভাবে দেখার সুযোগ আছে। ২০১৯ সাল দেশের অর্থনীতির জন্য বড় অর্জনের বছর হবে। এ সময়েই ব্যাংক খাত নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে এমডিদের মধ্যে বক্তব্য দেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আনিস এ খান, সিটি ব্যাংকের সোহেল আর কে হুসেইন, ইস্টার্ন ব্যাংকের আলী রেজা ইফতেখার, আইএফআইসি ব্যাংকের শাহ আলম সারওয়ার, ব্যাংক এশিয়ার আরফান আলী, ইসলামী ব্যাংকের এমডি মাহবুব উল আলম, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আবুল কাশেম মো. শিরিন, সোনালী ব্যাংকের ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম, কৃষি ব্যাংকের আলী হোসেন প্রধানিয়া, ফারমার্স ব্যাংকের এহসান খসরু, মেঘনা ব্যাংকের আদিল ইসলাম প্রমুখ।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং সব ক্ষেত্রেই আমরা এগিয়ে গেছি। কৃষি থেকে আমরা এখন শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এ অর্জন এবং পরিবর্তনের প্রধান ভূমিকা পালন করছে ব্যাংকিং খাত।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান বলেন, গত ১০ বছরে ৮ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণের ঝুঁকি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা যদি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণকে (ছোট, মাঝারি ও বড়) তিন ভাগে ভাগ করি তাহলে দেখা যাবে বর্তমানে ছোট আকারের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ মোকাবিলায় দেশের সব ব্যাংকের সক্ষমতা রয়েছে। আর মাঝারি আকারের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম ৭০ শতাংশ ব্যাংক। তবে বড় ঝুঁকির ক্ষেত্রে সবাই সক্ষম নয়।’

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আরফান আলী বলেন, এক সময় ব্যাংকিং খাতে ৯ দশমকি ৬১ শতাংশ সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হতো। বর্তমানে ৬৬ শতাংশ সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। বর্তমানে স্কুলব্যাংকিং, ১০ টাকার হিসাব খোলা সবক্ষেত্রে আমরা সফল।

"