গেঁটেবাত আরোগ্যে পরামর্শ

ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা গ্রহণ ও সচেতনতা

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ মানুষ গেঁটেবাতে আক্রান্ত। এর মধ্যে শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগছে। বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে এ রোগীর হার শতকরা শূন্য দশমিক ৭ ভাগ। যাদের অধিকাংশই চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলেটশন বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চিকিৎসকরা এসব কথা জানান। গেঁটে বাত সম্পর্কে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যবিলিটেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মশিউর রহমান খসরু। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলেটশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তসলিম উদ্দিন। এ সময় ৫০ জন গেঁটেবাতের রোগী ও তাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, এ রোগের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং পঙ্গুত্ব প্রতিরোধে দরকার ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। সভায় বক্তারা জানান, গেঁটেবাত মূলত মানুষের শরীরের জয়েন্ট বা গিরার প্রদাহজনিত রোগ। মহিলা ও ধূমপায়ীদের এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া ব্যক্তির জিনগত ত্রুটি ও পরিবেশগত কারণেও হতে পারে।

এই রোগীদের সাধারণত দুই হাত ও পায়ের ছোট গিরা আক্রান্ত হয়। গিরাগুলো ফুলে লাল হয়ে যায়, ব্যথা করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর গিরাগুলোতে আড়ষ্টভাব বা জ্যাম হয়ে যায়। যা কাজকর্ম করতে থাকলে ধীরে ধীরে কমে যায়।

তবে রোগটি সম্পূর্ণভাবে নিরাময় সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি এক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিভিন্ন গিরা বাঁকা হয়ে অচল হয়ে যায়, কিডনি, ফুসফুস, ব্রেইনের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে।

তারা জানান, বিএসএসএমইউর উদ্যোগে গত তিন বছর ধরে বাতের রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪টি রিউমাটোলজি রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। যেখানে প্রতি মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিনামূল্যে বাতের রোগীদের সমন্বিত চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া এখন পর্যন্ত প্রদাহজনিত বাতের তিন শতাধিক রোগী নিবন্ধিত হয়ে নিয়মিত সেবা নিচ্ছেন।

"