ঢাবিতে বক্তারা

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বড় কারণ ‘সেমিস্টার সিস্টেম’

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ ‘সেমিস্টার সিস্টেম’। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘স্টপ সুসাইড’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান বলেন, আমাদের বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে যে সেমিস্টার সিস্টেম রয়েছে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা কাঠামোগত চাপ তৈরি করে। সে চাপে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেই কারণে তারা আত্মহত্যার পথকে বেছে নেয়। এ রকমের পরিস্থিতিতে আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ের নিজস্ব দায়িত্ব আছে। যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে তা বিশ^বিদ্যালয়গুলো তদন্ত করতে পারে। কী কারণে শিক্ষাথীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, সেই কারণ চিহ্নিত করে আত্মহত্যা প্রবণতারোধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখাত পারে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়েও আমরা দেখছি, গত কয়েক মাসে ৯ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা করার পেছনে অনেক কারণ আছে, এর মধ্যে মনোবৈজ্ঞানিক, রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক কারণ আছে। আমরা যে সময়টা অতিক্রম করছি, সে সময়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যান্ত্রিকতার প্রতি আমরা যতটা সহমর্মী হয়ে পড়েছি, মানুষের প্রতি মানুষের ততটা সহমর্মিতা নেই। সে কারণে মানুষের মধ্যে একটা বিচ্ছিন্নতা মনোভাব তৈরি হয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতাবোধই আমাদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতাবোধ অনেক কারণে হয়ে থাকে। এর বড় কারণ হচ্ছে মানুষ ভুল করার পরও তাকে সহমর্মিতার দৃষ্টিতে না দেখা, তিরস্কার করা।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেন বলেন, তারুণ্য এমন একটি সময় যেটা খুব সবুজ এবং সজীব। কিন্তু আমরা দেখছি, গত কয়েক মাসে এই তারুণ্য ঝরে পড়ছে। এই দায় থেকে আমরা মুক্তি পাব না।

সমাবেশ শেষে মোমবাতি প্রজ্বালন করে যারা আত্মহত্যা করেছে, তাদের স্মরণ করা হয়। এ সময় তারা ‘আমিই বন্ধু, বন্ধুর আত্মহত্যার দায় আমার’, ‘আমি শিক্ষক, আমার ছাত্রের আত্মহত্যার দায় আমার’, ‘আমি সমাজ প্রতিটি আত্মহত্যার দায় আমার’, ‘আমি রাষ্ট্র নাগরিকের আত্মহত্যার দায় আমার’ ইত্যাদি লেখা ফেস্টুন হাতে নিয়ে নিজেদের ক্ষমাপ্রার্থী হিসেবে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকে অংশ নেন।

"