পিইসির উত্তরপত্র পরিবর্তনে শিক্ষা কর্মকর্তাসহ আটক ৪

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার উত্তরপত্র পরিবর্তনের অভিযোগে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. শাহেদুল ইসলামসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা কমিটি। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপঙ্কর রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মো. নজরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি শেষ হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় বেশ কিছু উত্তরপত্রের লেখা দেখে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী শিক্ষকরা ওই খাতাগুলো আমার সামনে উপস্থাপন করেন। খাতাগুলোতে লেখার ধরণ দেখে আমারও সন্দেহ হলে আমি উপজেলা প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায়ের নিকট উত্তরপত্রগুলো উপস্থাপন করি। পরে ইউএনও মহোদয় তদন্ত করে উত্তরপত্র পরিবর্তনের প্রমাণ পান। উত্তরপত্র পরিবর্তনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বন্দবের ও দাঁতভাঙা ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. শাহেদুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক সাদ্দাম হোসেন এবং রৌমারী সদর ইউনিয়নের সাকসেস মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু মূসা ও একই ইউনিয়নের সৃজন শিক্ষা মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয়জন শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়ায় এবং এ অনৈতিক কাজে প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ চারজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জানান, ‘মূলত কিন্ডারগার্টেন নামক দুটি কোচিং সেন্টারের প্রধানদের সঙ্গে যোগসাজশে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম উত্তরপত্র পরিবর্তনে সহায়তা করেছেন। এ কাজে উত্তরপত্রের কোর্ড লেখে নিয়ে তা পরিবর্তনে সহায়তা করেছে মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক সাদ্দাম হোসেন। উত্তপত্র মূল্যায়নকালে সন্দেহ হলে আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে তাদের হাতের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হই যে ওই উত্তরপত্রের লেখাগুলো তাদের নয়।

পরে অফিস সহায়ক সাদ্দাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে উত্তরপত্র পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে এবং এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহেদুল ইসলাম ও উল্লিখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারাও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন।’

ইউএনও আরো জানান, ‘কিন্ডারগার্টেন নামক কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাইয়ে দিতে উত্তরপত্র পরিবর্তনের মতো অনৈতিক কাজ করিয়েছে। কিন্তু উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী শিক্ষকদের দূরদর্শিতায় তা ধরা পড়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করারও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

"