রাজশাহীতে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ না পাওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

নানা কারণে রাজশাহীতে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ২৩ প্রার্থীর। কিন্তু তারা মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশ কপি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের জন্য আদেশের কপি নিতে গতকাল সোমবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন তারা। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউই আদেশের কপি পাননি বলে জানিয়েছেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বেরও অভিযোগ করেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা। রাজশাহী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তারা সরকারের অঘোষিত আদেশ পালন করছে। যে কারণে বাতিলের আদেশের কপি দেওয়া হচ্ছে না।

সমাপ্ত বলেন, ‘আপিল সুযোগের সময় মাত্র তিন দিন। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে এরই মধ্যে একদিন অতিবাহিত হয়ে গেল। ঢাকায় গিয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে যেন বিএনপির প্রার্থীরা আপিল করতে না পারে সে লক্ষ্যেই সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কর্মকর্তারা এমন আচরণ করছে।’

অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের সোমবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘অভিযোগ থাকলে আপনারা আপনাদের মতো লেখেন। তবে যেভাবে নিয়ম আছে সেভাবেই তারা পাবে।’

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত রোববার যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা রাজশাহীতে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতাসহ ২৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ২৩ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের আবু সাঈদ চাঁদ। তাদের আসনে একাধিক নেতাকে বিএনপি দলীয় মনোনয়নের প্রত্যায়নপত্র দিলেও মূলত এই তিন নেতাই ‘চূড়ান্ত’ প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদের মধ্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা নাদিম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে মামলার তথ্য গোপন ও ঋণ খেলাপির কারণে। রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে চারঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে মন্ত্রণালয়ে চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণে।

আরো যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন, বাসদের আলফাজ হোসেন, স্বতন্ত্র সুজা উদ্দিন, শহিদুল করিম শিবলী, সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস ও সাইদুর রহমান। রাজশাহী-২ আসনে এনপিপির সাইফুল ইসলাম স্বপন ও স্বতন্ত্র মাসুদ রানা। রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপির মতিউর রহমান মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও স্বতন্ত্র আরেক প্রার্থী আতিকুর রহমান। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির আবদুল গফুর ও যুক্তফ্রন্টের সরদার মোহাম্মদ সিরাজুল করিম। রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির আবু বকর সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের ওবায়দুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং রাজশাহী-৬ আসনের বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক।

"