ইসির স্বপ্ন সুষ্ঠু ভোট

সমভাবে আইন প্রয়োগের নির্দেশ

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিজয়ের মাসে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হলেও এটিকে প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু করতে চায় নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এক্ষেত্রে নির্বাচনী মাঠ সামলানোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছে ইসি। তাই কমিশনের তরফ থেকে নির্বাচনে দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তাদের সমভাবে আইনের প্রয়োগ করে জনমনে আস্থার ক্ষেত্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গতকাল সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সরকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে এই নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। অনুষ্ঠানে ১৩টি জেলার ৪০৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আইন সিদ্ধ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে জানিয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, আসছে সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান আইন প্রয়োগ করতে না পারলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সবার জন্য সমভাবে আইনের প্রয়োগ করা না হলে তা আইন নয়, আইনের অপলাপ মাত্র। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে আমরা নিজেদের কলঙ্কিত করতে চাই না।

বাংলাদেশে নির্বাচনের কোনো ধারাবাহিকতা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, কখনো সেনা সমর্থিত সরকারের অধীনে, কখনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। আমাদের নির্বাচনের কোনো ধারাবাহিকতার রীতি গড়ে না উঠলেও এই প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা ধারাবাহিকতার ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। এজন্যই এই নির্বাচনকে আমরা ভিন্নভাবে প্রবাহিত হতে দিতে পারি না। আপনারা দায়িত্ববোধ ও নির্বাচন সম্পর্কে জনমনে আস্থার ক্ষেত্র তৈরি করবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থী যেন আপনাদের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। আপনাদের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অতি সামান্য। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে যাতে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এই সামান্য চাওয়াই এখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাস্তবতায় বিশাল কর্মযজ্ঞে রূপান্তরিত হয়েছে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের নিয়ে আমরা শুধু দেশবাসী নয়, বিশ্ববাসীর নজরদারির সামনে। আমাদের প্রতিটি কার্যকলাপ, প্রতিটি পদক্ষেপ সবাই প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সেদিক থেকে এই নির্বাচন আমাদের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্বাচন। একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আমরা কিছুতেই আমাদের সম্ভ্রম নষ্ট হতে দিতে পারি না।

তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের মাধ্যমে এই দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা ছিল একটি গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্রের মূল কথা আইনের শাসন এবং সবার প্রতি সমভাবে আইনের প্রয়োগ। স্বাধীনতার মাধ্যমে সেদিন ভবিষ্যৎ প্রজšে§র জন্য একটি সুন্দর ও সুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন রচিত হয়েছিল। শুদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই স্বপ্নটিকে বাস্তবতায় রূপ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে।

"