পা দিয়ে লিখেই পরীক্ষা দিচ্ছে মুন্নী ও সিয়াম

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের বাউসাইদ গ্রামের সিএনজি চালক ইউনুস মিয়ার মেয়ে মুন্নী আক্তার এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ির দিনমজুর জিন্নাহ মিয়ার ছেলে সিয়ামের হাত নেই। অথচ তারা পা দিয়ে লিখেই এবার প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের অদম্য ইচ্ছে শক্তির কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট :

দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল) : মুন্নী আক্তার হাত দিয়ে নয়, বরং পা দিয়ে লিখেই সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পড়াশোনার প্রতি এমন আগ্রহ এবং এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীর মনোবলকে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে দেখছে। মুন্নী শশীনারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

জানা যায়, পা দিয়েই লেখাপড়াসহ যাবতীয় কাজকর্ম চলে মুন্নী আক্তারের। জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই তার। পা দিয়েই চলে খাওয়া-দাওয়া।

তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ জলিল জানান, পা দিয়ে লিখেই মুন্নী কৃতিত্বের সঙ্গে পাঁচটি ক্লাস অতিক্রম করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউসুব হোসেন জানান, পা দিয়ে লিখলেও মুন্নীর লেখাগুলো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন।

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) : মুন্নির মতো প্রবল ইচ্ছা আর মনোবলের আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মেধাবী ছাত্র সিয়াম (১১)। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা দিচ্ছে সে। সিয়াম উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতনের শিক্ষার্থী।

পরীক্ষা শেষে কক্ষ থেকে বেরিয়ে সিয়াম এ প্রতিবেদককে জানায়, ‘আমার কোনো হাত নেই, তাতে কী? অধিকাংশ নিজের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করি। হাত না থাকলেও পায়ে লিখে পরীক্ষা দিতে পারছিÑ এটাই আমার আনন্দ।’ সে দেশের সর্বোচ্চ লেখাপড়া শেষ করে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করতে চায় বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

সিয়ামের মা জোসনা বেগম জানান, ‘জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। লেখাপড়ার প্রতি তার ঝোঁক অনেক। কখনো পড়তে বসতে বলতে হয় না। কিছু কিছু কাজ ছাড়া অধিকাংশ কাজ ও নিজেই করে। সাঁতার কাটা ও খেলাধুলাতেও পারদর্শী।’ তিনি আরো বলেন, ‘অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার বা ভালো পোশাকও দিতে পারি না।’ সরকারি-বেসরকারি বড় ধরনের কোনো সহযোগিতা পেলে ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।

উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা জানান, ‘বাবার আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য লেখাপড়া মাঝপথে থমকে যায় সিয়ামের। পরে মাসিক বেতন মওকুফ করার পর পুনরায় সে লেখাপড়ায় মন দেয়।’ চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেটি খুব মেধাবী ও ভদ্র।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ওই শিক্ষার্থীর পরিবারকে সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।’

"