পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে সচিব

শর্ত ভঙ্গ করে পর্যবেক্ষণ করলে নিবন্ধন বাতিল

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শর্ত ভঙ্গ করে পর্যবেক্ষণ করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে, গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করা যাবে না, ছবি তোলা যাবে না, মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে নাÑ এমন শর্তে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রধানদের বলেন, অনেক সাংবাদিক পর্যবেক্ষকদের সামনে ক্যামেরা ধরবেন, উনি কিন্তু কথা বলতে পারবেন না। কোনো সংবাদ পত্রে লাইভে কথা বলতে পারবেন না, কমেন্টস করতে পারবেন না। ব্রিটেনের পুলিশের মতো, মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে শুধু পর্যবেক্ষণ করবেন। আমাদের কাছে লিখিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করবেন না।

পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সচিব বলেন, যখন আপনারা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবেন তখন কয়েকটি সাবধান বাণী উচ্চারণ করবেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিচয়পত্র সার্বক্ষণিক গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে। যাতে যে কেউ বুঝতে পারেন যে, আপনি একজন পর্যবেক্ষক। প্রথমে কেন্দ্রে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারকে তার পরিচয় দিতে হবে। কেন্দ্রে কোনো মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে না, কোনো ছবি তুলতে পারবেন না, সেই কেন্দ্রে যত প্রবলেমই হোক সে পর্যবেক্ষণ করে একটি রিপোর্ট পেশ করবেন। তারপর আপনি সবার কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়ে কম্পাইল করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন দেবেন। পর্যবেক্ষণের সময় গোপন কক্ষে যাওয়া যাবে না, কাউকে নির্দেশনা দিতে পারবেন না, প্রিসাইডিং, পোলিং অফিসারকে কোনো পরামর্শ দিতে পারবেন না। যদি কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হয়, এটা তারা কমিশনকে অবহিত করতে পারেন বা লিখিতভাবে অবহিত করতে পারেন।

ইসি সচিব বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের ১১৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থা ছিল। তার মধ্যে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে এনজিও ব্যুরো থেকে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দফতর থেকে অভিযোগ আসায় নির্বাচন পর্যাবেক্ষক নীতিমালা অনুসরণ করে সেটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সচিব বলেন, একটি সেন্টারে অনেকগুলো সংস্থা লোক থাকবে। পোলিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যম থাকবে। এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে আপনাদের জন্য যে নীতিমালা সেটি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবেন।

সচিব আরো বলেন, একজন পর্যবেক্ষকের কারণে কিন্তু আপনি নিজেও বিপদে পড়ে যাবেন। আমাদের নীতিমালায় বলা আছে যে, আপনি যদি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন তাহলে কিন্তু আপনাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ জন্য খুব সতর্কভাবে এ পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ফলো করে দায়িত্ব পালন করবেন। সচিব আরো বলেন, আপনারাও যখন কম্পাইল করে জমা দেবেন, তার আগে আপনারাও কোনো কমেন্টস করবেন না। রিপোর্ট কম্পাইল হলে প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন এবং আমাদের কাছে জমা দিতে পারেন। আপনাদের আচরণ হবে নিউট্রাল। এমন কোনো ব্যক্তিকে আপনারা নিয়োগ করবে না যেকোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। এগুলো আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।

পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করে সচিব বলেন, ‘একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন নিবন্ধন যাতে বাতিল না হয়। সে দিকে আপনারা খুব বেশি খেয়াল রাখবেন। আপনারা অনেকে এনজিও হিসেবে কাজ করেন। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আপনারা নির্বাচনেও কাজ করেন। কিন্তু এখান থেকে যদি আমরা রিপোর্ট দেই যে, আপনি এই ধরনের একটি আচরণ করেছেন। যেটার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। তাহলে কিন্তু আপনার নিবন্ধনটা বাতিল করার জন্য যারা নিবন্ধন দেয় তাদেরকেও আমরা চিঠি দিয়ে দেব। সুতরাং, বি কেয়ারফুল। আপনারা এমন কোনো আচরণ করবেন না, এমন কোনো কাজ করবেন না যেটার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াটা ভ-ুল হতে পারে বা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।’

"