পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নেই হতে পারে টেকসই নগর

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নগরের পরিধি বৃদ্ধির ধারণা আরো স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। শহরের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন জরুরি। একদিকে অতি ধনী অন্য দিকে অতি দরিদ্রের অবস্থান হলে নগর সামঞ্জস্যতা হারায়। পরিকল্পিত নগরায়ণের ক্ষেত্রে নগরের বাসযোগ্যতা, নাগরিকের মানসিক স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বিদ্যমান পরিকল্পনায় এসব বিষয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন হলেই সেটা হবে টেকসই নগর।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, সব নগরের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও একই ধরনের সমস্যাও রয়েছে। আরবন স্প্রেকট্রামের ধারণায় প্রত্যেকটা নগরীকে একইভাবে চিন্তা করার কথা বলা হয়েছে। আর এজন্য শুধু ঢাকা নগরী নিয়ে পরিকল্পনা করলে হবে না, ঢাকার বাইরে অন্যান্য নগরীকে নিয়েও অভিন্ন পরিকল্পনা করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘টেকসই নগর ও জনবসতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীর বাংলামোটরের প্লেনার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লেনার্স (বিআইপি) আয়োজিত বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস ২০১৮ উপলক্ষে সমসাময়িক পরিকল্পনা ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের সহযোগী হিসেবে ছিলেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেলটেক, আবাসন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং, বেসরকরি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ও রেডিও টুডে।

তিনি বলেন, আমাদের নগরগুলো চার ধরনের সমস্যার টানাপড়েনে চলছে। এর মধ্যে দিয়ে বর্তমান বাস্তবতাগুলো তৈরি হচ্ছে। প্রথমটি হলো, প্রত্যেকটি শহরের আয়তন বাড়ছে। মানুষের ¯্রােত আসছে শহরগুলোতে। অর্থনৈতিক বিষয় যে দিকে থাকবে সে দিকে মানুষ যাবে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিস্বার্থ। মানুষের সার্বিক চিন্তার বিপরীতে ব্যক্তি স্বার্থে সবকিছু নির্ধারিত হচ্ছে। তৃতীয় হচ্ছে, নিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাব। দেশে নিয়ম আছে, কিন্তু জবাবদিহিতার বড় অভাব রয়েছে। নগরীর কোথাও খালি জায়গা পেলেই ভবন তৈরি করা হচ্ছে। চিন্তাও করছে না সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা হবে কিনা। আর শেষ বিষয়টা হচ্ছে উদ্ভাবনী চিন্তা। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্য বিআইপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্যানারি স্থানান্তর হয়েছে বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু উল্টো হয়েছে। এখন ধলেশ্বরী নদী বুড়িগঙ্গার মতো হচ্ছে।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিআইপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার মাহমুদ, বিআইপির সহ-সভাপতি ফজলে রেজা সুমন, ব্র্যাকের কর্মসূচি প্রধান হাসিনা মোশারেফা, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল প্রমুখ।

সেমিনারে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আধুনিক নগরায়ণ নিয়ে তাদের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। বিকেলে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিকল্পনা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

"