আফ্রিকায় গুলি করে হত্যা

থামছে না আহাজারি : লাশ আনার দাবি

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের নজরুল ইসলামকে (৩৫) আফ্রিকায় নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনার বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও এখনো থামেনি নিহতের স্বজনদের আহাজারি। নজরুল ওই গ্রামের আবদুল আউয়াল মিয়ার ছেলে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নজরুলের মা সামাত্ত্ব বানু মোবাইল ফোনে নজরুলের ছবি দেখে দেখে কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন। কোনোমতেই যেন থামছে না তার কান্না। মা ছাড়াও তার দুই অবুঝ শিশু বার বার বাবা বাবা বলে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। তাদের কান্নায় যেন এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। সরকারের কাছে লাশ আনার দাবি তার পরিবারের। জানা যায়, প্রায় ৮ বছর পূর্বে জীবিকার তাগিদে আফ্রিকায় পাড়ি জমান নজরুল ইসলাম। তিনি আফ্রিকার জোহানেসবার্গ টাউনে কিশোরগঞ্জ সুপার মার্কেটে এন্ড হোলসেল এ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ৩ নভেম্বর সকালে তিনি তার মার্কেটের জিনিসপত্র কেনার জন্য টাকা পয়সা নিয়ে গাড়িযোগে বের হন। পথিমধ্যে ফোর্ডসবার্গ এলাকায় পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে গুলি করে হত্যা করে।

অপরদিকে, হত্যাকা-ের পর পরই একটি সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ভেতরে বসা ছিল নজরুল ইসলাম। নজরুলের গাড়ির পেছনেই ছিল দুর্বৃত্তদের গাড়ি। গাড়িটি থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই দুর্বৃত্তরা গাড়ি থেকে নেমে নজরুলের গাড়ির দিকে যায় এবং গাড়ির ভেতরেই নজরুলকে গুলি করে।

ফুটেজে আরো দেখা যায়, ওই গুলিটি নজরুলের হাতে লাগে এ সময় তাৎক্ষণিক সে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা পার হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে দুর্বৃত্তরা আবারও তার গতিরোধ করে ধস্তাধস্তি করে নজরুলকে গাড়ির ভেতর নিয়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি গুলি করে। পরে নজরুলসহ গাড়িটি নিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। এক পর্যায়ে অন্যত্র গিয়ে গাড়িসহ নজরুলের লাশ ফেলে টাকা পয়সা নিয়ে যায়।

নিহত নজরুলের পিতা আবদুল আউয়াল জানান, তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলেটিকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি তার ছেলের লাশ ফেরত এবং ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন। ইউপি মেম্বর আবদুস সহিদ জানান, ‘আমাদের একটি চাওয়া সরকার যেন দ্রুত নজরুলের লাশ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে এবং নজরুলের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে।’

 

"