গাজীপুরে শ্রমিক নিহতের গুজব

শ্রমিকদের মারধরে আনসার সদস্যের মৃত্যু

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর এলাকার মিতালী ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিক নিহতের গুজবে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কারখানাসহ আশপাশের কয়েক কারখানায় ভাঙচুর করেছে। এ সময় শ্রমিকদের হামলায় ডেল্টা স্পিনিং কারখানার এক আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই আনসার সদস্যের নাম ভৈরব চন্দ্র সরকার (৩৫)। তিনি গাইবান্ধার গোয়ালবাড়ি এলাকার তপন কুমারের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কাশিমপুরের হাতিমারা এলাকায় মিতালী ফ্যাশন লিমিটেড পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর মেহেদী হাসানকে ১৫ পিস টি-শার্ট চুরির অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তা মারধর করে। এতে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরদিন গত বুধবার বিকেলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় আশপাশের আরো কয়েক কারখানার শ্রমিক তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই কারখানাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানায় হামলা চালিয়ে দরজা-জানালার কাঁচসহ বিভিন্ন মালামাল এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। শ্রমিকরা ডেল্টা স্পিনিং মিলে গিয়ে এই কারখানার শ্রমিকদের বের কর আনার চেষ্টা করলে আনসার সদস্যরা বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকরা আনসার সদস্যদের ওপর হামালা চালিয়ে মারধর ও কারখানা ভাঙচুর করে। এতে আনসার সদস্য ভৈরব চন্দ্র সরকার, সাজু মিয়া, আবু বকর ও প্লাটুন কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন মোল্লা আহত হয়। আনসার সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে, শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ওই এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানা গতকাল বৃহস্পতিবার জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে, গুরুতর আহত ভৈরব চন্দ্র সরকার ও সাজু মিয়াকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভৈরব চন্দ্র সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডেল্টা স্পিনিং মিলের প্লাটুন কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকরা এ কারখানায় এসে শ্রমিকদের বের করে নেওয়ার চেষ্টা করলে আনসার সদস্যরা বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকরা আনসার সদস্যদের ওপর হামালা চালিয়ে মারধর ও কারখানা ভাঙচুর করে। তারা সিকিউরিটি ও অস্ত্রাগার কক্ষে হামলা চালায়। তাদের হামলায় তিনিসহ আনসার সদস্য ভৈরব চন্দ্র সরকার, সাজু মিয়া, আবু বকর আহত হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানার ইনচার্জ আকবর আলী খান জানান, গত ২৯ অক্টোবর ১৫ পিস টি-শার্ট চুরির ঘটনায় কারখানার কয়েক কর্মকর্তা এক শ্রমিককে মারধর করে। তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কিছু শ্রমিক গুজব ছড়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ গুজবে উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানা ভাঙচুর এবং আনসার সদস্যদের মারধর করে। এতে এক আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

"