ক্রসফায়ারের হুমকি পুলিশের চাঁদা দাবি

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সোনারগাঁও থানার ওসিসহ দুই পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনেছেন নারায়ণগঞ্জের এক ঠিকাদার।

জাহিদুল ইসলাম স্বপন নামে ওই ঠিকাদার গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশোক কুমার দত্তের আদালতে এ বিষয়ে মামলার আবেদন করেন।

স্বপনের অভিযোগ, প্রায় দেড় একর জমির মালিকানা নিয়ে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ওই ব্যক্তির ‘পক্ষ নিয়ে’ সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক তাকে থাকায় নিয়ে নির্যাতন করেন এবং জমি ছেড়ে দিতে ‘চাপ দেন’।

বিচারক অভিযোগ শুনে সহকারী পুলিশ সুপার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীর আইনজীবী মুহাম্মদ মনির হোসেন জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আদালতে মামলা হওয়ার পর নির্দেশনা পেয়েছি। তদন্ত করে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম নির্যাতন বা হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলছে জমি নিয়ে মামলায় আটক করার পর ‘পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছেন’ ওই ঠিকাদার।

জাহিদুল ইসলাম স্বপন আদালতে তার আর্জিতে বলেছেন, সোনারগাঁও উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ওই জমি নিয়ে ‘সামিট ফয়েলস পলিমার লিমিটেড’ নামে প্রস্তাবিত একটি কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে তার মামলা চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশ ওই কোম্পানির কাছ থেকে ‘আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে’ গত ৭ অক্টোবর গভীর রাতে স্বপনকে তার বাড়ি থেকে ‘হাত-পা ও চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়’ এবং থানায় আটকে রেখে ‘শারীরিক নির্যাতন’ চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে আদালতে।

স্বপন তার আর্জিতে বলেছেন, ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক জমিটি ছেড়ে না দিলে তাকে ‘ক্রসফায়ারে হত্যার’ হুমকি দেন। আর ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে ৫০ লাখ টাকা ‘চাঁদা’ দাবি করেন। তাতে রাজি না হওয়ায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে সংজ্ঞা হারালে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়ে থানায় এনে আবারও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বপন। তিনি বলছেন, ৮ অক্টোবর বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতির রফিকুল ইসলাম নান্নু থানায় গেলে একটি সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। প্রস্তাবিত ‘সামিট ফয়েলস পলিমার’ কারখানার মূল মালিক মোস্তফা গ্রুপের এমডি মোস্তফা কামাল বলেন, দত্তপাড়ার ওই জমি তারা দুই বছর আগে কিনেছেন। ‘কিছু লোক জাল দলিল দেখিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে আমি মামলা করেছি। আদালত ওই জমিতে স্থিতাবস্থা দিয়েছে।’মোস্তফা কামাল বলছেন, ৭ অক্টোবর রাতে একদল লোক ওই জমি দখলের চেষ্টা করায় তারা পুলিশে খবর দেন। তখন পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে আটক করে নিয়ে যায়। ‘পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় মুচলেকা রেখে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে বলে আমি শুনেছি।’

সেই রাতে কী ঘটেছিল জানতে চাইলে সোনারগাঁও থানার ওসি মোরেশেদ আলম বলেন, ‘ওই জমিতে স্থিতাবস্থা আছে। তা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা করায় জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

নির্যাতন, ক্রসফায়ারের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘তাকে গ্রেফতার করে আনার সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি বা কোনো ধরনের নির্যাতন তাকে করা হয়নি।’

 

"