মুরাদনগরে ছাত্রীর আত্মহত্যা

থানায় মামলা করে নিরাপত্তাহীন পরিবার

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

মুরাদনগর উপজেলায় এক ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে প্রকাশের হুমকি দেওয়ার পর ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় আছে ছাত্রীটির পরিবার। আসামিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে চলাফেরা করতে পারছেন না ছাত্রীটির পরিবারের সদস্যরা। মামলার আসামি মির্জাপুর গ্রামের ইদন মিয়ার ছেলে মহসিন পলাতক থাকলেও তার চাচা ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া বাদীকে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে নিয়ে আপসের প্রস্তাব দিয়েছেন। তা না হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মামলার বাদী সাইদুল ইসলাম। ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া হুমকি দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বাদী সাইদুল নিজে আমার বাড়িতে এসে বিষয়টি আপস মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। পরে আমি বিষয়টি মীমাংসা করার ব্যাবস্থা গ্রহণ করি। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মৃত স্কুলছাত্রীর মা তার অন্য সন্তানদের নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, তারা অজানা আঙ্ককে আছেন। আত্মহত্যাকারী স্কুলছাত্রী কাজলের মা রুশিয়া বেগম বলেন, দেড় মাস আগে আমার মেয়ে গোসল করার সময় মহসিন গোপনে মোবাইলে ভিডিও করে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে। গত শুক্রবার মহসিন আমাদের ঘরে ঢুকে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। পরদিন আমার মেয়ের আত্মহত্যা করে। আমার মেয়ে মৃত্যুর আগে তার ডায়েরিতে লিখে গেছে, ‘মারলেও পাপ, মরলেও পাপ, আমি কাউকে মারতে পারব না তাই নিজেই চলে গেলাম।’ আমি আমার মেয়ের এই মৃত্যুর বিচার চাই। মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মন্জুর আলম বলেন, হুমকির বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পাঁচকিত্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মির্জাপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে কাজল আক্তার রিয়া (১৩) নিজ বাড়িতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার পর নিহতের ভাই সাইদুল ইসলাম ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে বখাটে মহসিন মিয়াকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় মামলা করেছেন।

 

"