ডিএনসিতে মাদক শনাক্তে এলো ডিজিটাল যন্ত্র

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে মাদকের ভয়াবহতা সীমা ছাড়িয়েছে। ইয়াবার ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় দেশব্যাপী চলছে বিশেষ অভিযান। এরই মধ্যে দেশে ঢুকে পড়েছে আফ্রিকান গাঁজা হিসেবে পরিচিত ‘এনপিএস’ বা ‘খাট’ নামের নতুন একটি মাদক। এসব কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মাদক নির্মূলে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে যুক্ত হয়েছে মাদক শনাক্ত করার অত্যাধুনিক ডিজিটাল যন্ত্র। প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস ক্রোমেটোগ্রাফি এন্ড মাস সিলেকটিভ ডিটেকশন (জিসি/এমএসডি) নামক এ যন্ত্রটি দেশে প্রথমবারের মতো স্থাপিত হলো।

ডিএনসি জানিয়েছে, নতুন এই যন্ত্রটিতে ১০ লাখ মাদকের ডাটাব্যাংক রয়েছে। যেকোনো অশনাক্ত মাদককে খুব সহজেই শনাক্ত করবে এটি। দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা কোরিয়া ইন্টান্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ডিএনসির যৌথ উদ্যোগে ‘দ্য প্রজেক্ট ফর ইলিসিট ড্রাগ ইরাডাকশন অ্যান্ড অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট থ্রো ইট (আই ড্রিম ইট)’ শীর্ষক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় কোরিয়ার নারকোটিক্স ডিভিশন সুপ্রিম প্রসিকিউটরস অফিস (এসপিও) মেশিনটি ডিএনসিকে দেয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডিএনসির কেমিক্যাল লেবরেটরিতে দুটি যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে মেশিনটির উদ্বোধন করেন ডিএনসির ডিজি জামাল উদ্দিন আহমেদ ও কোরিয়ার এসপিওর পরিচালক চিওন কিহোং।

ডিএনসি সূত্র জানায়, দেশে প্রথমবারের মতো এই মেশিন ডিএনসিতে যুক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকায় এটির কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে উদ্বোধন হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। এই মেশিনে একসঙ্গে অনেকগুলো মাদকের সেম্পল দেওয়া সম্ভব। শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ সফলভাবে কাজ করা এই মেশিনে বিশ্বের ১০ লাখ মাদকের ডাটাব্যাংক রয়েছে। এ ছাড়া কোনো অশনাক্ত মাদকও খুব দ্রুতই এই মেশিন শনাক্তসহ রিপোর্ট দিয়ে দিবে। এটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চলবে। এতে শুধু মাদকের সেম্পল দিয়ে দিলেই হবে। বাকি কাজ মেশিন নিজে থেকেই করবে।

"