সরাইলে দাফন, জীবিত উদ্ধার নারায়ণগঞ্জে

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নারায়ণঞ্জ প্রতিনিধি

জীবন শঙ্কার কথা জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় জিডি করে ‘নিখোঁজ’ হয়েছিলেন মো. আসাদুল্লাহ। একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের পর তাকে আসাদুল্লাহ হিসেবে শনাক্ত করে দাফন শেষে মামলা করেছিল পরিবার। সেই আসাদুল্লাহকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পেয়েছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, ‘এক রিকশাওয়ালা গত বৃহস্পতিবার রাতে আসাদুল্লাহকে থানায় নিয়ে আসেন। আসাদুল্লাহর দাবি, তাকে কেউ নারায়ণগঞ্জে ফেলে রেখে গেছে। তাকে ডাক্তার দেখিয়ে আমরা সরাইল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। তিনি সুস্থ আছেন। তাকে গুম করে হত্যা করার অভিযোগে সরাইল থানায় একটি মামলা আছে।’ ঘটনার শুরু গত ৫ আগস্ট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাসিন্দ আসাদুল্লাহ সেদিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানে বলা হয়, অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কাপ্তান মিয়ার সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জেরে তারা তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এরপর ৯ আগস্ট সরাইলের উচালিয়া পাড়ার গ্যাসফিল্ড রাস্তা থেকে আসাদুল্লাহকে তুলে নিয়ে ‘গুম’ করা হয়েছে অভিযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন তার মেয়ে মোমেনা বেগম। সেখানেও আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই দুইজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ৬ সেপ্টেম্বর অরুয়াইল ও সরাইল থানার মাঝামাঝি এলাকার চুন্টা কৈবর্তপাড়ার একটি বিল থেকে অর্ধগলিত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করলে সেটি আসাদুল্লাহর মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্তের পর সেই লাশ নিয়ে তারা গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন। দাফনের পর দিন আসাদুল্লাহকে অপহরণের পর হত্যা এবং লাশ বিলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ এনে সরাইল থানায় মামলা করেন তার মেয়ে মোমেনা। সেখানে শফিকুল ইসলাম ও কাপ্তান মিয়াসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। সরাইল থানার ওসি মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আসাদুল্লাহ ধূর্ত প্রকৃতির লোক। তাকে নারায়ণগঞ্জে পাওয়া গেছে। তাকে আনার জন্য ফোর্স পাঠিয়েছি।’

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সরাইল থানার এসআই জাকির হোসেন খন্দকার বলেন, ‘সোনারগাঁও থানা হেফাজতে থাকা আসাদুল্লাহর সঙ্গে মোবাইলে আমার কথা হয়েছে, সে আসাদুল্লাহই। আমরা সেখানে যাচ্ছি।’ আসাদুল্লাহকে ‘গুমের’ মামলার প্রধান আসামি শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ‘নাটকীয়’ এ ঘটনার সঙ্গে তৃতীয়পক্ষ জড়িত। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির’ প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মোশাররফ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। একই ধরনের কথা বলেছেন মামলার আরেক আসামি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাপ্তান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, কিন্তু লাশের রাজনীতি করি না। আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে মোশাররফ এই নাটক করিয়েছে। হয়রানি করার জন্য আমরা দায়ীদের শাস্তি চাই।’

তাদের এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ বলেন, ‘কারো সঙ্গে আমার খারাপ সম্পর্ক নেই। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে আমি সব সময়ই সচেষ্ট। কেন তারা আমাকে জড়িয়ে কথা বলছে আমি বুঝতে পারছি না।’

"