মাদারীপুরে মামলা তুলে নিতে আটকে রেখে নির্যাতন

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মাদারীপুর প্রতিনিধি

ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়ায় বাদীর আত্মীয়স্বজনকে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পশ্চিম রাস্তি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের স্বীকার হয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছে বাদীর আত্মীয় স্বজন। গতকাল শুক্রবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির নামে এক বখাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক করে একাধিকবার এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৯ জুলাই সদর মডেল থানায় সাব্বিরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে ওই তরুণী। খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় তাদের মধ্যে বিয়ে হয়। কিন্তু মেয়েটিকে মেনে নেয়নি ছেলের পরিবার। এ কারণে মামলাও তুলে নেয়নি বাদী পক্ষ। মামলার দুই মাস পর প্রধান আসামি গ্রেফতার হলেও তারা হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামির পক্ষের লোকজন বাদীর মামা বারেক মোড়ল ও তার পরিবারের সব সদস্যকে আটকে রেখে নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ করেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে ধর্ষণ মামলার বাদী বলেন, প্রধান আসামি গ্রেফতারের পর থেকে তার দুলাভাইকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। আমি সাব্বিরের ৯ মাসের সন্তান গর্ভে নিয়ে অসহায় হয়ে দুলাভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। আমি ও আমার গর্ভের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চাই।

অভিযুক্ত সাব্বিরের বাবা মতলেব সরদার বলেন, আমি তো সবকিছু মেনে নিয়েছি, তারপরও কেন আমার ছেলেকে গ্রেফতার করল। তাছাড়া আমরা কাউকে মারধর করিনি। শুনছি স্থানীয় ক্লাবের লোকজন ওদের নিয়ে গিয়েছিল। এর বেশি আমি জানি না। মাদারীপুর সদর থানা এসআই বিল্টু দাস জানান, ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা হওয়ার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর আসামি সাব্বিরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। শুনেছি ওই এলাকায় একটি সালিশ বসেছিল। সেখানে একটু হাতাহাতি হয়েছে। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।

"