রাজশাহীতে গৃহবধূ ও ভ্যানচালককে হত্যা

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর পুঠিয়া ও গোদাগাড়ী উপজেলায় গৃহবধূ ও ভ্যানচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুঠিয়ায় ভ্যানের জন্য চালককে হত্যা করে ভ্যান নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা ও গোদাগাড়ীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার দিনগত রাতের কোনো একসময় এ দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার সকালে লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুঠিয়ায় গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের চকপলাশী গ্রামে চালককে হত্যা করে রিকশা-ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চকপলাশী গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে নিহত ভ্যান চালক জাহাঙ্গীর হোসেনের (৩৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জাহাঙ্গীর পুঠিয়া পৌর এলাকার গ-গোহালি গ্রামের রজব আলীর ছেলে।

পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন জাহাঙ্গীর। এরপর আর বাড়ি ফিরেননি। সকালে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে স্থানীয়রা তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। ওসি জানান, জাহাঙ্গীরের লুঙ্গি ছিড়ে হাত ও মুখ বাঁধা ছিল। শরীরে বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে ভ্যান নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিরিন খাতুন থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ দিকে গোদাগাড়ীতে যৌতুকের জন্য এক সুইটি খাতুন (১৯) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সুইটি উপজেলার রাজাবাড়িহাট গ্রামের শাওন হোসেনের (২৪) স্ত্রী। সুইটির বাবার নাম শাহীন উদ্দিন। তার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জগপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য। প্রায় ১০ মাস আগে একই উপজেলার রাজাবাড়িহাট গ্রামের সেলিম হোসেনের ছেলে শাওনের সঙ্গে তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। গতকাল রোববার সকালে শ্বশুরবাড়িতে সুইটির ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। আগের দিন শনিবার বিকালে অনেক পীড়াপীড়ি করে সুইটিকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি নিয়ে যান শাওন। সুইটির বাবা শাহীন উদ্দিন বলেন, বিয়ের পর কয়েকদফায় তিনি দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছেন। আরও টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সইতে না পেরে দেড় মাস আগে সুইটি তার বাড়ি চলে যান। শনিবার বিকালে সুইটির স্বামী শাওন পীড়াপীড়ি করে তাকে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়। সকালে তিনি খবর পান, শ্বশুর বাড়িতে ঘরের সিলিংফ্যানের সঙ্গে তার মেয়ের লাশ ঝুলছে। যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের বাবা। গোদাগাড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

"