চাঁদপুরের জঙ্গলে প্রাচীন মসজিদ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরে জঙ্গল পরিষ্কার করার পর প্রাচীন একটি মসজিদ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামের তালুকদার বাড়ি এলাকায় মসজিদটির অবস্থান। গত বুধবার বিকেলে মসজিদটি দৃশ্যমান হয়। গতকাল বৃহস্পতিবারও শ্রমিকদের সেখানে কাজ করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন বলেন, ‘তথ্য পেয়ে আমি মসজিদটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরে ভেতরে ঢুকে দেখি, এটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। দেয়ালঘেঁষে চারপাশে চারটি ছোট মিনার রয়েছে, মসজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট এবং বাইরের প্রস্থ ১৫ ফুট। মসজিদটির ভেতরের দৈর্ঘ্য আট ফুট ১০ ইঞ্চি এবং প্রস্থ সাত ফুট তিন ইঞ্চি। মসজিদটির একটি মেহরাব রয়েছে এবং দেয়ালে ছোট ছোট কয়েকটি খোপ রয়েছে। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৩৩ ইঞ্চি। পোড়া ইট, বালু, চুনা এবং সুুরকি দিয়ে ভবনটি নির্মিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘এলাকার প্রয়াত মুরব্বিরা জানিয়েছিলেন সেখানে একটি পুরনো স্থাপনা আছে। কিন্তু কেউই সেখানে যেতেন না। কারণ মসজিদটির ওপরে একটি বিশাল জির গাছ ও তার শেকড়, বাঁশঝাড়, অন্যান্য বনলতা; যা ভবনটির বাইরের অংশকে ঢেকে রেখেছিল। পরে আজিজ তালুকদার নামে এক ব্যক্তি ১০-১২ বছর আগে জির গাছটি কেটে সেটি দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তা করতে পারেননি। কারণ এটি এতই ভেতরে ছিল যে; সম্পূর্ণ দৃশ্যমান করা তার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি অবশ্য স্থানীয়দের স্থাপনাটি সম্পর্কে জানান। কিন্তু ভয়ে কেউ মসজিদটিকে দৃশ্যমান ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেননি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি বিষয়টি জানার পর এটিকে দৃশ্যমান করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।’

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর আগে কোনো একটি বইতে মসজিদটির বিষয়ে তথ্য পেয়েছিলাম। কিন্তু কোথায় তার অবস্থান সেটি ঠিক করতে পারিনি।

মসজিদটি সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের প্রতœতাত্ত্বিক অধিদফতরের সঙ্গে কথা বলব।’ তিনি বলেন, ২০-২৫ বছর আগে এই মসজিদের পাঁচ কিলোমিটার দূরে উলিপুর গ্রামে একই রকম দুটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। নতুন মসজিদের গায়ে কোনো লেখা না পাওয়া গেলেও ওই দুটি মসজিদের শিলালিপিতে স¤্রাট আওরঙ্গজেবের আমলের কথা বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন দৃশ্যমান মসজিদটি ৩০০ বছর আগের।

চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শওকত ওসমান এ ব্যাপারে বলেন, ‘মসজিদটি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি। মসজিদটি রক্ষায় যা যা করণীয় তা করা হবে।’

 

"