সাভারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

ক্ষতিপূরণ দেবে না কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আশুলিয়া প্রতিনিধি

সাভারে কারখানার গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে আগুন লেগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা পুলিশকে না জানিয়ে গোপনে নিহতের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। সোমবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের জামুর মুচিপাড়া এলাকায় অবস্থিত প্রমা গ্রুপের পাইপ তৈরির কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মো. দবির (৫০)। সে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার জামসা মাটিকাটা গ্রামের মৃত দিয়ানত খানের ছেলে। নিহত দবির প্রমা গ্রুপে ১৫ বছর ধরে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করত বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বজনরা অভিযোগ করেন, কারখানার গ্যাসলাইনে লিকেজ থাকার কারণে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দবিরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র হাসপাতালের বিল ছাড়া অন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে।

আবদুল আউয়াল নামে একজন প্রতিবেশী জানান, দবির গরিব হওয়ায় খুব সাদামাটা জীবনযাপন করত। এখন উপার্জনক্ষম একজন লোক হারিয়ে গেল। এখন কারখানা কর্তৃপক্ষ যদি কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ না দেয় তাহলে দবিরের সংসারটা কীভাবে চলবে।

এ ব্যাপারে প্রমা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ মজুমদার বলেন, দবির ১৫ বছর ধরে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে প্রমা গ্রুপে কাজ করত। এখানে গ্যাসলাইনের লিকেজ থাকায় গ্যাসের চুলা থেকে হঠাৎ আগুন ধরে গেলে সে আহত হয়। পরে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাপাসাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দবির মারা যান।

কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কারখানায় প্রায় ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। কিন্তু ঈদের বন্ধের কারণে ক্যামেরাগুলোও বন্ধ থাকায় কিছুই রেকর্ড হয়নি। তবে দবির খুব ভালো লোক ছিল। তার চিকিৎসার বিল ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের কথা বিবেচনা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. রেজাউল হক বলেন, আগুনে নিহত দবিরের শরীরের প্রায় ৪০ ভাগ পোড়া যায়। এজন্য তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ লাশটি নিয়ে যায়।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক ও ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির (ইনচার্জ) মোহাম্মদ গোলাম নবী শেখ বলেন এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"