রাজশাহীতে ভাইরাস জ্বরে ভোগান্তিতে শিশু ও বৃদ্ধরা

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী

আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে রাজশাহীতে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। গত তিন দিনে অন্তত ২৫০ রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডিসপেনসারিতে কমপক্ষে তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এ রোগে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ডাক্তার পার্থ মনি ভট্টাচার্য (মেডিসিন) বলেন, উপসর্গ হিসেবে এসব রোগীর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব থাকবে। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে এমন জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। সাত দিন পর্যন্ত এ রোগ স্থায়ী হয়। এ অসুখে প্যারাসিটামল জাতীয় গ্রুপের ওষুধ খেলে তাৎক্ষণিকভাবে রোগী আরাম পেলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। নয়তো অন্য কোনো কারণে এ জ্বর হয়ে থাকলে পরবর্তিতে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর মৌসুম পরিবর্তনের সময় এ ধরনের রোগের আবির্ভাব ঘটে। সারা দিন ও সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত গরম এবং শেষ রাতে ঠান্ডার কারণে মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। যে কোনো বয়সের মানুষ এ জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও যাদের অ্যাজমা ও হাঁপানি রয়েছে তাদের এই সময় একটু সতর্ক থাকতে হবে। এদিকে সম্প্রতি প্রতিটি ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র রোগীরা। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের আশরাফ আলী প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ঈদের দিন বিকাল থেকে তার স্ত্রী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিন রাখার পর চিকিৎসকরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় জ্বর ও বমির সঙ্গে যুক্ত হয় ডায়রিয়া। এক পর্যায়ে নগরীর লক্ষ্মীপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ পর্যন্ত সাড়ে ১০ হাজার টাকার ওষুধ কেনা হয়ে গেছে। তবে এখন রোগী অনেকটাই সুস্থ আছে বলেও জানান তিনি।

"