ঈদের ছুটি : ভারত যাওয়ার হিড়িক, বেনাপোলে ভিড়

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

বেনাপোল প্রতিনিধি

ঈদের টানা ৫ দিনের ছুটিতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার দ্বিগুণ বেড়েছে। স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ, চিকিৎসা, ব্যবসা, কেনাকাটা ও বেড়ানোর উদ্দেশে তাদের ভারত গমন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঈদ প্যাকেজে অসংখ্য বাংলাদেশীকে ভিসা দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। ফলে ঈদের ছুটির গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার (২০-২৩ আগস্ট) চার দিনে প্রায় ১৫ হাজার পাসপোর্টযাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গেছেন। সরেজমিনে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, নোম্যান্সল্যান্ড ও পাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সারতে শুল্ক কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন পুলিশের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। লাইন ঠিক রাখতে বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রচন্ড রোদে এবং খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার নারী শিশু ও পুরুষ। ধীরগতির কারণে দুই দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। অল্প সময়ে কম খরচে বেনাপোল পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাওয়া যায় কলকাতা হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। এ কারণে প্রতিদিন স্থলপথে দুই থেকে আড়াই হাজার পাসপোর্টযাত্রী গমনাগমন করেন এ পথে। দুই দেশের কর্তৃৃপক্ষ ইমিগ্রেশনে ও বেনাপোল চেকপোস্ট সোনালী ব্যাংক বুথে জনবল বৃদ্ধি না করায় দীর্ঘ সময় লাগছে পারাপারে।

ঢাকায় চাকরি করেন অমিত কুমার সাহা গত বুধবার সকালে তার বন্ধুদের সঙ্গে ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ভবনে জানান, সরকারি চাকরি করি। তাই ঘুরে বেড়ানোর সময় পাই না। এবার ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়ায় ভারতে বেড়াতে যাচ্ছি। কয়েকজন আত্মীয় আছে। এ সুযোগে তাদের সঙ্গে দেখাও হবে, বেড়ানোও হবে। কিন্তু ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি লাইনে। কখন পার হব বলতে পারছি না।

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা জামিল হোসেন জানান, নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। ভারতে গিয়ে ভালো ডাক্তার দেখাবেন। কাজের ব্যস্ততার কারণে এত দিন সময় করে উঠেতে পারেনি। লম্বা ছুটিতে ব্যস্ততা কম থাকায় এবার এ সুযোগে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি। চিকিৎসা শেষে ভারতের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরবেন বলে ঠিক করেছেন। পাসপোর্টের কার্যাদি সম্পন্ন করতেই আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে তিনি জানান। ময়মনসিংহের প্রদীপ কুমার জানান, পরিবার নিয়ে ভারত যাচ্ছি। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও সোনালী ব্যাংক বুথে জনবল কম থাকায় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে। যাত্রী যাতায়াত বাড়লেও এসব প্রতিষ্ঠানে জনবল বাড়ছে না। অথচ ভ্রমণকর বাবদ ৫০০ ও বন্দরের টার্মিনাল চার্জ বাদ ৪৫ টাকা করে আদায় করে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, পাসপোর্টযাত্রীদের চাপ বাড়লেও তাদের দুর্ভোগের কথা মাথায় নিয়ে ১৬টি ডেস্কে দ্রুত কাজ করেছেন অফিসাররা। এবার ঈদে ভারত ভ্রমণের চাপ অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি। ইমিগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা জানান, যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন তার জন্য ঈদের ছুটির মধ্যেও জনবল বাড়িয়ে কাজ চলছে চেকপোস্ট শুল্ক তল্লাশি কেন্দ্রে।

"