চট্টগ্রামে গলা কেটে সাকেব স্বামীকে হত্যা

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিয়ের দুই বছর পর বিচ্ছেদ হয়েছিল তাদের। এরপর মেয়েটি ডাক্তারি পড়তে চলে যান চীনে। তার সাবেক স্বামী তাকে আবার কাছে পেতে চান। কিন্তু মেয়েটি সম্পর্কে ফিরতে না চাইলে ফেসবুকে অশ্লীল কিছু ছবি ছড়িয়ে দেন যুবকটি। প্রতিশোধ নিতে চীন থেকে চলে আসেন তিনি। সাবেক স্বামীর সঙ্গে একটি হোটেলে উঠেন। পরে কোরবানির জন্য প্রয়োজন জানিয়ে এক সঙ্গে ছুরিও কিনেন তারা। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাক্তন স্বামীকে জবাই করেন তিনি। শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ডাস্টবিনে ফেলে দেন।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে এসব কথা স্বীকার করেছেন রোকসানা আক্তার পপি (২২) নামের ওই নারী। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের খুলশী ফয়েসলেক এলাকার লেকসিটি মোটেল ফাইভ হোটেল থেকে মাঈন উদ্দিনের (৩০) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাঈন উদ্দিন ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া শুভপুর এলাকার মো. সিরাজুল হকের ছেলে এবং রোকসানা আক্তার পপি চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ মেহেদীনগর এলাকার আবু আহমদের মেয়ে। রোকসানা আক্তার পপি চীনের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। জবানবন্দিতে পপি জানান, ২০১২ সালে পরিবারকে না জানিয়ে তারা বিয়ে করেন। পপির পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় ২০১৪ সালে মাঈন উদ্দিনকে তালাক দেন তিনি। ২০১৫ সালে পপি চীনে পড়াশুনার জন্য চলে যান। পরে পুনরায় তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন মাঈন উদ্দিন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন মাঈন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন পপি। পরে মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে গত বুধবার রাত দেড়টার দিকে হোটেলে উঠেন।

পপি আদালতে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে একসঙ্গে হোটেল থেকে বের হয়ে নাস্তা করেন তারা। পরে শপিং করতে যান ষোলশহর এলাকার শপিং কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে কোরবানির জন্য প্রয়োজন জানিয়ে মাঈনসহ ছুরি কেনেন পপি। পরে বিকেল ৩টার দিকে হোটেলে পৌঁছে সেই ছুরি দিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটান। হত্যার পর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পপি। পরে ঢাকায় না গিয়ে সীতাকুন্ডের বাড়বকুন্ড এলাকা থেকে নাসিরাবাদ আল ফালাহ গলির বাসায় ফেরত আসেন। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

 

 

"