‘মেয়েকে আমিই মারলাম পাশের ঘরে লাশ আছে’

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি

দুই শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন করাতে না পারায় তাদের হুমকির প্রেক্ষাপটে নিজ শিশু কন্যাকে (১৪ মাস) হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক অধ্যক্ষ। পরে চিরকুটে সেই শিশুর লাশের অবস্থানসহ আত্মহত্যা চেষ্টার কারণ উল্লেখ করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ওই শিক্ষকের নাম কাদেরুজ্জামান। তিনি ঈশ্বরদীর বেসরকারি আইএসটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের শেরশাহ রোডে বসবাস করেন।

কারিমা নামে ওই শিশুকে পানির ড্রামে চুবিয়ে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই অধ্যক্ষ। গতকাল শনিবার দুপুরে অধ্যক্ষের কর্মস্থলের টেবিলে রাখা একটি চিঠির সূত্র ধরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের পেছনের আইএসটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একটি ড্রামের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জামানের টেবিলে পেপার ওয়েটে চাপা দিয়ে রাখা চিঠিতে লেখা ছিল, ‘রাসেল ও পল্লব আমাকে বাঁচতে দিবে না, আমি ওদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড তুলতে পারি নাই। তাই পল্লবের কাছে অপমান হওয়ার থেকে মৃত্যু অনেক ভালো, আমার মৃত্যু হলে আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ অনেক খারাপ হবে। তাই মেয়েকে আমিই মেরে ফেললাম, পাশের ঘরের ড্রামে আমার মেয়ের লাশ আছে।’ এই চিঠির সূত্র ধরেই সেখান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ৭ টার দিকে অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জামান তার শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হন। এ সময় তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে ঈশ্বরদী বাজারের পৌর সুপার মার্কেটের সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে শিক্ষক কাদেরুজ্জামানকে প্রথমে ঈশ্বরদী ও পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। তাকে সুস্থ করে তোলা হলে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে চিঠির সূত্র ধরেই ধারণা করা হয়েছে, তার প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত ঝামেলায় তিনি তার শিশু কন্যাকে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তবে জ্ঞান ফেরার পর তার কাছ থেকে জানার পর বোঝা যাবে প্রকৃত ঘটনা কি ছিল।

 

"