ঈদুল আজহায় এবারও আশা-নিরাশায় রোহিঙ্গারা

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)

উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গারা ঈদুল আজহা উদ্যাপন নিয়ে এবারও আশা-নিরাশায় ভুগছে। কীভাবে তারা পশু কোরবানি করবে? না দিতে পারলে মাংস পাবে কোথায়? আসন্ন কোরবানির ঈদ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এমন জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহা নিয়ে তাদের মাঝে আশা-নিরাশার অনেক কথাবার্তা। কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নাগরিক শফিক আহমদ ও ছখিনা খাতুনসহ অনেকে জানান, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করতে চায় এবং চাহিদা অনুযায়ী কোরবানির মাংস পেলে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে খেতে পারবে। এতে অন্তত ঈদ উদ্যাপনের মত আনন্দ একটু হলেও পাবে বলে আশা তাদের। বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন নিয়ে কথা হয় রোহিঙ্গা নবী হোছন ও বেলাল আহমদের সঙ্গে। তারা বলেন, গত বছর ঠিক এই সময় নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে বাংলাদেশে। গত ঈদুল আজহায় কেটেছে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে পথে ঘাটে। মাংস তো দূরের কথা ঠিকমতো ঈদের নামাজটাও আদায় করতে পারিনি। বাংলাদেশে আশ্রয় হলেও সামনের ঈদ ঠিকভাবে করতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ নুর বলেন, প্রশাসনিকভাবে প্রত্যেক রোহিঙ্গা পরিবারকে মাংস দেওয়ার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ কোরবানি করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা তো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। তবে কেউ কোরবানি করছে কি না, সে ব্যাপারে তিনি পরিষ্কারভাবে জানাতে পারেননি।

এদিকে পুরাতন ও নতুন আশ্রিত ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গাদেরকে কীভাবে এনজিও ও দাতা সংস্থা মাংস বিতরণ করবেÑ তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এ পর্যন্ত ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ কোরবানির ঈদ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেÑ তা গণমাধ্যমকে জানায়নি।

এমএসএফের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’র আক্রমণ ও পরবর্তীতে মায়ানমার সামরিক বাহিনীর তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন উদ্দেশ্যমূলক সহিংসতা থেকে বাঁচতে ৭ লাখের এর বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে জানার জন্য কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন জানান, গত রোববার জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে কোরবানির ঈদে রোহিঙ্গাদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী গরু, মহিষ, ছাগলসহ ২০ হাজার মাংসের প্যাকেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এসব দেখভালের জন্য উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ক্যাম্প প্রশাসন, ওসি ও জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি থাকবে। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ব্যক্তি, এনজিও এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে এসব গরু দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রাও গরুর মাংস পাবেন বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, উখিয়া থানা পুলিশ কোরবানের ঈদে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও এবং দানশীল ব্যক্তিদে দেওয়া মাংস শৃঙ্খলার মাধ্যমে বিতরণে সহযোগিতা করবে।

"