চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট পূর্তমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, যেভাবে আমাদের সেনাবাহিনী কাজ করছে। চট্টগ্রামের যে দুঃখ- জলাবদ্ধতা, এটা ইনশাআল্লাহ সমাধান হবে। সেটার ব্যবস্থা নিয়ে আমরা নেমেছি। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ভালো ফল মিলবে। এ বর্ষা মৌসুমে যে কাজ করেছে, দেখলাম। অগ্রগতিতে আমি সন্তুষ্ট।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, সিঙ্গাপুরে গেলে এদিক ওদিক দেখি। সিগারেট খেলে ১০০ ডলার জরিমানা হয়। ওটা ফেললে ২০০ ডলার জরিমানা। এই যে ঢাকায় ছেলেমেয়েরা মারা গেল, ট্রাফিক সিস্টেম না মেনে গাড়ি চলল। বিদেশে গেলে কেন সোজা হয়ে যাই? এখানে কেন সোজা না? সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দুর্ঘটনা কমে যাবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মাত্র ১ শতাংশ অর্থের কাজ শুরু হয়েছে। ওই টাকায় যা কাজ হবে তার মাত্র ১০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই সুফল মিলতে শুরু করেছে। সেনাবাহিনী দুঃসাহসিক কাজে হাত দিয়েছে। সমাধান হবেই হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, প্রথম ডিপিপিতে ৩৬টি খাল আমরা রেখেছি। পরিষ্কার করা, খনন, দখলমুক্ত, রেটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, একপাশে রাস্তা, সিল্ট ট্রেপ, নিচু ব্রিজ-কালভার্ট উঁচু করা এবং এ সংশ্লিষ্ট সব ইউটিলিটি লাইন উঁচু করা হবে। যা করা প্রয়োজন সব করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে একদিনে সর্বোচ্চ ৫১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সেটাকে ভিত্তি ধরে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১ কোটি ১৪ লাখ সিএফটি ময়লামাটি অপসারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ নামে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পায়। সিডিএর অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সব পূর্ত কাজ করছে সেনাবাহিনী।

সভায় অন্যদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দরের হাইড্রোগ্রাফার শামসুল আরেফিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

"