ট্রাফিক পুলিশ বাড়ানোর তাগিদ স্কাউটদের

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের সড়ক ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে চলছে ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ। এ উপলক্ষে বরাবরের মতো পুলিশদের সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ও জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদে কাজ করছেন রোভার স্কাউট দলের সদস্যরা। গতকাল শনিবার ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিনে এসে স্কাউট সদস্যদের অভিজ্ঞতার আলোকে ট্রাফিকব্যবস্থাকে উন্নত করতে বলেছেন তাদের মূল্যবান পরামর্শের কথা।

জনবহুল রাজধানীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের চেয়ে জনগণকে অভ্যাস করানোটাই হওয়া উচিত মূল পদক্ষেপ। আর এ জন্য ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। এমন পরামর্শ রেখেছেন কর্মরত রোভার স্কাউটরা।

রাজধানীর বিজয় সরণির মোড়ে কর্মরত পুলিশদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় প্রতিনিয়ত। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, সব মিলিয়ে ছয় থেকে আটজন ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। অন্যদিকে প্রায় ২০ জন রোভার স্কাউট এই মোড়ে পুলিশকে সহায়তা করছে। যারা রয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। শুধু মোড়ে নয় সিগন্যালে এসে গাড়িগুলো সঠিক লেনে আছে কিনা, বাম দিক দিয়ে যেসব গাড়ি বেরিয়ে যাবে তারা দিকনির্দেশক বাতি জ্বালিয়ে চলছে কিনা, পথচারীরা জেব্রাক্রসিং বা ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করছে কিনা, বাইকের হেলমেট, মোটরযানের বৈধ কাগজপত্রসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা, অ্যাম্বুলেন্স আটকে আছে কিনা। এ ধরনের সব প্রশ্নের উত্তর নেওয়ার মাধ্যমে রাস্তার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত ও নিয়মতান্ত্রিক রাখছে তারা। আর এসব কাজ অল্পসংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্কাউটরা।

তানজীব নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী ও রোভার স্কাউট জানান, আমরা এই কদিনে মানুষকে কিছুটা অভ্যস্ত করতে শিখিয়েছি। কিন্তু যাদের শেখাচ্ছি তারা আবার রাস্তায় পরে এলেই নিয়ম ভাঙতে চেষ্টা করে। যদিও তারা এর আগে নিয়ম ভেঙে জরিমানা দিয়েছে। তাই জনসচেতনার চেয়ে রাস্তায় মানুষকে এ ধরনের নিয়ম মানতে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এ কারণে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এই অল্পসংখ্যক পুলিশ দিয়ে হবে না।

সিফাত নামের আরেক স্কাউট বলেন, আমরা রাস্তায় মানুষকে ধরে ধরে রাস্তা পার করিয়েছি। এক মিনিট বাঁচানোর জন্য মানুষ নিয়ম ভাঙে। আবার হেলমেট ছাড়া বাইক চালায়, সিটবেল্ট বাঁধে না, লেন মানে না। এসব অভ্যাস ত্যাগ না করলে দুর্ঘটনা কমবে না বা যানজটের ভোগান্তিও নিরসন করা যাবে না। অথচ সচেতনতামূলক তথ্যের অভাব নেই তাদের কাছে। আমার মনে হয় অভ্যাস হলেই তারপর জনসচেতনতা কাজে লাগবে। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশরাও তাদের সদস্য বাড়ানোর পক্ষে একই মতপ্রকাশ করেছেন।

"