কোমলমতি শিশুরা বিবেককে নাড়া দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, বিদেশে ৯৮ শতাংশ মানুষ আইন মানলেও আমাদের দেশে ৯০ শতাংশ মানুষ ট্রাফিক আইন মানে না। তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ট্রাফিক আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এখন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক সপ্তাহ আরো তিন দিন বাড়িয়ে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাত দিনের ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ দিনে আরো তিন দিন বাড়িয়ে ১৪ আগস্ট করা হয়েছে। ট্রাফিক সপ্তাহে আইন প্রয়োগ ও শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এটা বেগবান করার জন্য আরো তিন দিন সময় বাড়ানো হচ্ছে। এতে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য, রাজধানীর রাস্তাগুলো অপ্রশস্ত কিন্তু গাড়ি বেশি। এ ছাড়া রোড মার্কিং স্বল্পতা, যেখানে-সেখানে পার্কিং, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এত কিছুর মধ্যেই ট্রাফিক পুলিশ শৃঙ্খলা ফেরানো কাজ করছে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল না থাকায় হাতের ইশারায় পুলিশকে কাজ করতে হচ্ছে। এতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ।

দুটি বাসের রেষারেষিতে শহীদ বীরবিক্রম রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাঠে নামে শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোমলমতি শিশুরা আমাদের ট্রাফিক পুলিশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাদের বার্তা যৌক্তিক ছিল। ওদের দাবিকে সামনে রেখেই ট্রাফিক আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলমান ট্রাফিক সপ্তাহে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত ছয় দিনে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৫২ হাজার ৪১৭টি যানবাহন, ১১ হাজার ৪০৫ চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফিটনেস নেই এমন ৫৫৭ যান ডাম্পিং করা হয়েছে। তিন কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কোনোভাবেই সড়কের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে দেওয়া যাবে না।

গত দুই বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এর আগে হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অপ্রতুল ছিল। গত দুই বছরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ৪৪ হাজার ৪৮৫টি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উল্টোপথে গাড়ি চালানোর ঘটনায় ৪৪ হাজার ১৬১টি যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করলে মোবাইল কোর্ট চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তায় বাস রেষারেষি করে চালানোর কারণে দুই শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। তাই চালক না হেলপার কে গাড়ি চালাচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অবৈধ গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। গাড়িতে বৈধ কাগজপত্র রাখতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি পাওয়া গেলে ডাম্পিং করে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে। রুট পারমিটবিহীন গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।

ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের কারণে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে বলে মনে করেন কি? এ প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা অনেকটাই ফিরে এসেছে, তবে তা অপ্রতুল। ঈদুল আজহার পরে ট্রাফিক পুলিশ অভিযান আরো জোরালো ও বেগবান করবে। ট্রাফিকব্যবস্থা টেকসই করার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখনো চুক্তিতে গাড়ি দেওয়ার কারণে চালকরা বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছেন। মালিকরা চালকদের মাসিক বেতনে গাড়ি চালানোর সুযোগ দিতে পারেন। শুধু আইন প্রয়োগ করে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। সবার সহযোগিতা দরকার।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত না করার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা চাইলে মামলা করতে পারবেন।

"