পাবনায় মানব পাচারে জড়িত পুলিশ কারাগারে

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

পাবনা প্রতিনিধি

মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাবনায় আবদুল মালেক মল্লিক নামের এক পুলিশকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। আটক পুলিশ সদস্য পাবনা জেলার আমিন পুর থানার দুর্গাপুর দক্ষিণ চর গ্রামের আবদুর রহমান মল্লিকের ছেলে। তিনি ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন (ব্যাচ নং ১১০৪৯)। গত বৃহস্পতিবার পাবনা চিফ জুডিশিয়াল আদালতে জামিন নিতে এলে ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম তার জামিন না মঞ্জুর করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পাবনা সদর উপজেলার জালালপুর গ্রামের মৃত ইসহাক আলীর ছোট ছেলে মিনহাজুল আবেদিনকে কানাডার টরন্টো শহরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে পুলিশ সদস্য আবদুল মালেক মল্লিকের ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার চুক্তি হয়। এর মধ্যে ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা সেই দিন নেন ওই পুলিশ। এর কিছুদিন পর তাকে ভারতে নিয়ে যায় এবং ওখান থেকে তাকে কলকাতা বিমানের মাধ্যমে কানাডায় পাঠাবে বলে কথা হয়। কিন্তু বিমানবন্দরে না নিয়ে ভারতের একটি গোপন স্থানে আটক রেখে তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এরপর চাপ সৃষ্টি এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তার ভাইয়ের কাছে ফোন দিয়ে বলে যে, আপনার ভাই কানাডায় পৌঁছে কাজকর্ম করছেন। আপনার ভাইয়ের কাছে পাওনা টাকাগুলো পরিশোধ করে দেন। সেই সময় বাকি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা মিনহাজের বড় ভাই মোস্তাফিজুর এস এ পরিবহনের মাধ্যমে আটক পুলিশ এবং তার ভাইকে দিয়ে দেন। এর তিন মাস পর এক অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোনে মিনহাজুল তার বড় ভাইয়ের কাছে বলে যে, আমাকে বাঁচাও, আমি ভারতে জিম্মি আছি। তারা আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। পরে তার বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিভিন্নভাবে তাদের কাছে পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বিষটি নিয়ে পাবনা পুলিশ সুপার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিএমপি কমিশনার, পুলিশ হেড কোয়ার্টারে অভিযোগ করা হয়। পরে তাদের পরামর্শক্রমে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে মামলা করা হয়। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবদুল খালেক মল্লিক পলাতক রয়েছেন।

 

"