থামানো যাচ্ছে না বরিশাল কলোনির মাদকবাণিজ্য

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পাশেই বরিশাল কলোনি। নিম্ন আয়ের কয়েক হাজার লোকের বাস এখানে। রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা এই কলোনি ‘মাদক বিক্রি ও সেবনের আস্তানা’ হিসেবে পরিচিত। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম স্টেশনের পাশে বরিশাল কলোনির অদূরে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, গাঁজা ও ইয়াবা ক্রেতাদের আনাগোনা। এখানে কিছুদিন পরপর অভিযান চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, বেশিরভাগ সময়ই তারা খালি হাতে ফেরেন। তাদের পক্ষে মাদক উদ্ধার কিংবা কোনো মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। কারণ অভিযানের আগেই খবর পৌঁছে যায় আখড়ায়। আর গেলেও কখনো কখনো মার খেয়ে ফিরতে হয় পুলিশকে। মাদক বিক্রির স্পট ঘিরে দিন-রাত পালাক্রমে অর্ধশত লোক পাহারা দেয়। ফলে ক্রেতা ছাড়া অন্য কেউ সহজে ঢুকতে পারেন না।

অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাদক বিক্রি চলে বরিশাল কলোনিতে। ১৯৮০ সালে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠে নগরীর সবচেয়ে বড় মাদকের আখড়া। এ কলোনির নিয়ন্ত্রক ফারুক ওরফে বাইট্যা ফারুক ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ফারুকের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন ইউছুফ। তার সঙ্গে ছিলেন সালামত, জসিম ওরফে ট্যাক্সি জসিম। ফারুকের মৃত্যুর পর বরিশাল কলোনির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ইউছুফের কাছে। ইউছুফের বিরুদ্ধে অন্তত ২৭টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চললেও বরিশাল কলোনির মাদক ব্যবসা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ ১৭ মে বরিশাল কলোনিতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইউছুফের অনুসারী হাবিব ও মোশাররফ নিহত হন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলাকালে সেখানে মাদক বেচা-কেনা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলেও অভিযানকারী দল চলে যাওয়ার পরপরই আবার মাদক বেচা-কেনা জমে উঠে।

কোনো কোনো সময় বরিশাল কলোনিতে অভিযানে গিয়ে হামলার মুখেও পড়তে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এর আগে ২০১৭ সালের ৫ মে বিকেলে বরিশাল কলোনিতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে খসরু ও পাভেল নামের দুইজনকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশের যৌথ দল। এ সময় ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এক পর্যায়ে অভিযান দলের ওপর হামলা চালিয়ে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয় মাদক ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। বরিশাল কলোনিতে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ চালানো হয়েছে। সেখানে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করা বেশকিছু ঘর আমরা উচ্ছেদ করেছি। বরিশাল কলোনির নিয়ন্ত্রক ইউছুফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে পুলিশের পক্ষে একার পক্ষে মাদক পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

"