কেন্দুয়ায় প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকারকে মারধর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙালি এবং তার লোকজন এ কাজ করে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। আহত ওই প্রধান শিক্ষক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। তবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বাঙালি বলেছেন, প্রধান শিক্ষকের দাবি সঠিক নয়। প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকার জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা ছিল। সম্প্রতি তা নিষ্পত্তি হওয়ায় বোর্ড পুনরায় অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বাঙালি আমার কাছে এমপির ডিও লেটার জমা দেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল হক ফকির বাচ্চুও সভাপতি প্রার্থী হিসেবে গত ২৬ জুন এমপির ডিও লেটার জমা দেন। কিন্তু আবদুস সালাম বাঙালি ডিও লেটার দেওয়ার পর থেকেই আমার উওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। ইতোমধ্যে আমি জেলা শিক্ষা অফিস থেকে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কাছ থেকে একজন অভিভাবক প্রতিনিধির মনোনয়নপত্র নিয়েছি। ৮ জুলাই রোববার অ্যাডহক কমিটির প্রস্তাব জমা দিতে কাগজপত্র নিয়ে বোর্ডে যাওয়ার কথা। শনিবার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে আব্দুস সালাম বাঙালি ও তার লোকজন নিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আমি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা করে মারধর শুরু করে এবং জোর করে আমার স্বাক্ষর নেয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালাম বাঙালির সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রধান শিক্ষককে মারধর করা ও জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান গত তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ে কমিটি নেই। কমিটির প্রস্তাব বোর্ডে পাঠানোর জন্য তিন মাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক এমপির ডিও লেটারে রেসপন্স না করায় আমরা তাকে দ্রুত বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য বলতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। তখন তিনি আমাদের দেখে দৌড়ে স্কুল থেকে চলে যান। কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী জানান, বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"