দিল্লিতে এইচ টি ইমাম

বিএনপির ওপর কিছুতেই ভরসা রাখবে না ভারত

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বিএনপি যতই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক শোধরানোর চেষ্টা করুক, তাদের মতো একটি পাকিস্তানপন্থি ও জামায়াত-সমর্থক দলের ওপর দিল্লি কিছুতেই ভরসা রাখবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি বলেছেন, আসলে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর একটা এক্সটেনশনে পরিণত হয়েছে। তাদের নিজেদের শক্তি বলতে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই, জামায়াত আর শিবিরের ভরসাতেই তারা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ও গ-গোল বাধাতে চাইছে। এমন একটা পাকিস্তানপন্থি শক্তিকে ভারত কেন হঠাৎ করে বিশ্বাস করতে যাবে?’ গতকাল শনিবার দুপুরে দিল্লির স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিদেশে ফেরার একজন কনভিক্টেভ ক্রিমিনালকে (দ-প্রাপ্ত অপরাধী) যে দল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়, তাদের ওপর একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক দেশ কীভাবে ভরসা রাখবে?’ আর ভারতের রাজনীতিবিদ বা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আলোচনা করতে বিএনপির যে তিন নেতা দিল্লিতে এসেছিলেন, তাদের দিকেই তাকান না কেন! আমি কারো নাম উল্লেখ করব না, কিন্তু তাদের একজন তো আমাদের দেশে পাকিস্তান ও চীনের এজেন্ট হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এইসব লোকের কথায় বিশ্বাস করে ভারত বিএনপিকে সমর্থন করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেবে কিংবা পাকিস্তানের পাতা ফাঁদে পা দেবেÑ এমনটা মনে করার কোনো কারণ দেখছি না।

অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা নানা দ্বিপক্ষীয় ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেন। ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবেও স্পষ্ট উত্তর এসেছে তার কাছ থেকে।

‘তিস্তা এখন আর তেমন কোনো ব্যাপার নয়’ : তিস্তা পানির চুক্তি প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন, তিস্তা এখন আর তেমন কোনো ব্যাপার নয়। এবারের নির্বাচনে বিরোধীরা নিশ্চয় বলার চেষ্টা করবে শেখ হাসিনার সরকার তো তিস্তা চুক্তিও করাতে পারলেন না, ভারত কিছুই দিল না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা কিন্তু পরিষ্কার বলতে চাই, তিস্তা এখন আর তেমন কোনো বড় সমস্যা নয়।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা কথা খুব বলেন, আমরা হলাম নদীর ভাঁটির দেশ। পানি এখানে ঠিকই আসবে, আসতে বাধ্য। একটা নদীকে কেউ মুছে দিতে পারবে না, আর তাই আজ হোক কাল। পানির ভাগাভাগি নিয়েও চুক্তিও ঠিকই হবে। তিনি বলেন, আসলে দুটো প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সদিচ্ছা আর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি (অ্যাটিচিউড) থাকলে যেকোনো বড় সমস্যাই মিটিয়ে ফেলা যায়। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আমাদের নাগরিকদের মৃত্যু কিংবা ফেনসিডিল পাচারের রমরমা নিয়ে একসময় হইচই কম হয়নি। কিন্তু এখন সীমান্তে মৃত্যুও প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে, ভারতের দিকে ফেনসিডিল বানানোর করাখানাগুলোও বন্ধ হওয়াতে পাচারও থেমে গেছে। তাই আমাদের কোনো সন্দেহ নেই ঠিক সেভাবে তিস্তারও একদিন সুরাহা হবে!’

"