ঈদুল ফিতরের আমল

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৮, ০০:০০

মুফতি মুহাম্মাদ যুবাইর খান

আজ শুক্রবার। পবিত্র মাহে রমজানের ২৯তম দিন। আর নাজাতের দশকের নবম দিন। এক এক করে মহিমান্বিত ও বরকতময় আরেকটি মাস চলে গেল। আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল-ই হতে পারে ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর রোজাদার মুসলিমের জন্য আনন্দের দিন। এক মাস রমজানের রোজা পালনের পর আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য ঈদ বা আনন্দ করার এই মহা সুযোগ করে দিয়েছেন। মুসলিম উম্মাহর ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সকলে এক মাস কৃচ্ছ্রসাধনের পর ঈদুল ফিতর এক অনন্য খুশির দিন। তবে ঈদ তাদের জন্য যারা রোজা রেখেছেন। যারা রমজানে সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পেরেছেন। যারা নিজের নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বিজয়ী হয়েছেন, ঈদ তাদের জন্য মহাখুশির দিন।

হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গেলেন। তিনি মদিনাবাসীকে পারসিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে বসন্তের পূর্ণিমা রাতে ‘মেহেরজান’ আর হেমন্তের পূর্ণিমার রাতে ‘নাওরোজ’ নামক উৎসবে মেতে ওঠতে দেখলেন; যা সুস্থ বিবেকের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মদিনাবাসীকে ডেকে বললেন, এ বিশেষ দিনে তোমাদের আনন্দ-উল্লাসের কারণ কী? মদিনার নওমুসলিমরা বললেন, আমরা জাহিলী যুগ হতে এ দুটি দিন এভাবেই পালন করে আসছি। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের আনন্দ-উৎসবের জন্য এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার একটি হলো ‘ঈদুল ফিতর’ অন্যটি ‘ঈদুল আজহা’। তোমরা পবিত্রতার সঙ্গে এ দুটি উৎসব পালন করবে।’ –(আবু দাউদ, হাদিস নং-১১৩৬ ও মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-১৩৬২২) ‘দুনিয়াবাসী এই দিনকে ঈদের দিন বললেও আসমানে একে বলা হয় ইয়াউমুল জায়িজা বা পুরস্কার প্রদানের দিন’। এদিন আল্লাহ তার রোজাদার বান্দাদের পুরস্কৃত করে থাকেন।

ঈদ কেবল একটি খুশির বা আনন্দের দিন নয়। ঈদ একটি ইবাদতের নাম। এ দিনটি আমলের জন্য এক বিরাট নেয়ামত। এদিনেও বিশেষ কিছু ইবাদত বা আমল রয়েছে, যেগুলোতে অনেক পুণ্য লাভ করা যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। রাতগুলো হলোÑ জিলহজের রাত, আরাফার রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং মধ্য শাবানের রাত। সুতরাং ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদত করা খুবই পুণ্যময় কাজ। এবার আমরা জেনে নেব ঈদের দিন আমাদের কী কী করণীয় রয়েছে।

ঈদুল ফিতরের দিনে করণীয় কিছু আমল :

১. ঈদগাহে যাওয়ার আগে উত্তমরূপে গোসল করা।

২. হালকা নাশতা করে ঈদগাহে যাওয়া। হাদিসে খেজুর বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন উত্তম পোশাক পরিধান করা। নতুন পোশাক পরিধান করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধতা নেই।

৫. ঈদগাহে যাওয়ার আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা।

৬. হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া। তবে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না হলে বাহনে চড়ে ঈদগাহে যাওয়া দোষণীয় নয়।

৭. এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে আসা। এতে দীর্ঘ হাঁটা এবং বেশি মানুষের সঙ্গে মেশার উপকারিতা রয়েছে।

৮. তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া। তাকবির বলবে এভাবে, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এর সঙ্গে বাড়িয়ে এভাবেও বলা যাবে, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ। আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।

৯. পারস্পরিক ঈদ শুভেচ্ছাবিনিময় করা। প্রতিটি জাতি তাদের নিজ নিজ ভাষায় শুভেচ্ছাবিনিময় করতে পারে। সাহাবায়ে কেরাম ‘তাক্বাব্বালুল্লাহা মিন্না ওয়া মিনকুম’ (আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে কবুল করুন) এ জাতীয় বাক্য দ্বারা ঈদ শুভেচ্ছাবিনিময় করতেন।

১০. খুতবা শোনা ও দোয়া করা। ঈদের নামাজের পরে ইমাম সাহেব খুতবা প্রদান করবেন এবং মুসল্লিরা তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবেন। এটি পালন করা ওয়াজিব।

১১. এদিনে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, গরিব-অসহায় নির্বিশেষে সবার সঙ্গে মিশা, সবার খোঁজখবর নেওয়া, সাধ্যমতো তাদের বাসাবাড়িতে নিমন্ত্রণ জানানো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।

"