সিলেটে ভুল চিকিৎসায় দুই প্রসূতির মৃত্যু

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট নগরীর একাটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় দুজন প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে আধাঘণ্টার ব্যবধানে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতালে এ ঘটনা দুটি ঘটে। এদিকে রোগী মারা যাওয়ার পর বিল না রেখেই তরিঘড়ি রোগী বিদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগ নিহতদের স্বজনদের।

নিহত দুই প্রসূতি হলেন, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কল্লগ্রামের শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী আসমা বেগম (২৪) ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের চুনাহাটি গ্রামের রুবেল আহমদের স্ত্রী ফয়জুন্নাহার চৈতি (২২)।

নিহত চৈতির স্বামী রুবেল আহমদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ডা. মিনতি সিনহা তার স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করেন। তার একটি ছেলে হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ এসে ইনজেকশন পুষ করলে রোগীর অবস্থার আরো অবনতি হতে থাকে। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে আইসিইউ সাপোর্টে নেওয়ার কথা বলেন। এরপর নগরের বেসরকারি রাগিব রাবেয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান রোগী আগেই মারা গেছেন।

এ ব্যপারে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. মিনতি সিনহা বলেন, দুই রোগীকে বৃহস্পতিবার রাতে অপারেশন করে তিনি রেখে যান। এরপর রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও কেউ তাকে জানায়নি। তার মতে, রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পর হয়তো কোনো ভুল ইনজেকশন পুষ করা হতে পারে, যে কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে চিকিৎসায় গাফিলতি থাকলে ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এদিকে, নিহত আসমা বেগমের ভাই কাইয়ুম আল রনি অভিযোগ করে জানান, তার বোনের প্রসব বেদনা ওঠার আগেই রাতে ডা. মিনতি সিনহা অস্ত্রোপচার করেন। তার একটি মেয়ে হয়। এরপরই একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার বোনকে রেখে যান ওই চিকিৎসক। সকালে রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর তিনি মারা যান।

নিহতের স্বজনরা বলেন, রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ার পর চিকিৎসকদের খোঁজ মেলেনি। তারা ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যান। এমনকি কথা বলার মতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি গৌছুল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

 

"