রিকশাচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আশুলিয়া প্রতিনিধি

আশুলিয়ায় ‘রিকশাচালক-মালিক কো-অপারেটিভ’ নামের এক সমিতির বিরুদ্ধে টোকেন দিয়ে অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রিকশাচালকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের এক স্থানীয় নেতার প্রভাবেই এই চাঁদা উত্তোলন করা হয়। আবদুল্লাপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বাইপাইল থেকে জামগড়া পর্যন্ত এলাকায় চলাচলরত কয়েকশত অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। জামগড়া এলাকার শফিকুল ইসলাম নামের এক রিকশা চালক অভিযোগ করে বলেন, তিনি বাইপাইল-আবদুল্লাপুর মহাসড়কে জামগড়া এলাকা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত কয়েক দিন যাবৎ ওই এলাকার রিকশা-ভ্যানচালক সমিতির লোকজন তাকে প্রতি মাসের ৫০০ টাকা চাঁদা দেওয়ার কথা বলেন। তবে তিনি চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাকে জোরপূর্বক ওই সমিতির অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে ৭৫০ টাকা নিয়ে একটি নম্বর প্লেট ও টোকেন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই অভিযোগ করে খোরশেদ আলম নামের আরেক রিকশাচালক। তিনি বলেন, কয়েক বছর যাবৎ জামগড়া ও বাইপাইল এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অথচ, ওই সমিতির সভাপতি সেলিম সরকারের লোকজন হঠাৎ করেই তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। তিনি বাধ্য হয়েই একটি নম্বর প্লেট ও টোকেনের বিনিময়ে ৭৫০ টাকা পরিশোধ করেন। এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রিকশাচালক অভিযোগ করে বলেন, তারা সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অনেক কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে। অথচ, ওই সমিতির নামে তাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৫০০ করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, সমিতির লোকজন ধামসোনা ইউপি সদস্য ও থানা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার প্রভাবে অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে সড়কের ওপর রিকশা থামিয়ে মারধর ও রিকশা আটকে রাখাসহ নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রিকশা-ভ্যানচালক সমিতির সভাপতি সেলিম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতি রিকশা থেকে ৭৫০ টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, তারা জোরপূর্বক নয়, স্বেচ্ছায় এসব টাকা উত্তোলন করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন রিকশা চালক তাদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নম্বর প্লেট ও টোকেন নিয়েছে বলেও তিনি জানান। ইউপি সদস্য মঈনুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, কেউ তার নাম ব্যবহার করে মিথ্যে কথা বলছে। এ ছাড়াও তিনি ওই সমিতির উপদেষ্টা তো দূরের কথা সমিতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কও নেই বলে দাবি করেন। তবে কেউ যদি রিকশাচালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন, তিনি সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান। আশুলিয়া থানার ওসি আবদুল আউয়াল বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান বলেন, বিষয়টি দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"